হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন মেয়র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯

লাথি মেরে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত বসার চেয়ার ফেলে দেয়ার ঘটনায় হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. লতিফুর রহমান রতন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় পাবলিক হলে এক অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের বসার চেয়ার জেনে লাথি মারেন। লতিফুর রহমান মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে পাবলিক হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের আয়োজনে ‘সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ মতবিনিময় সভা ও মা সমাবেশের' অনুষ্ঠান চলছিল। এতে সাংবাদিকদের জন্য লেখা সংবলিত নির্ধারিত আসন রাখা হয়। ওই আসনগুলোতে মেয়র লতিফুর রহমানসহ কয়েকজন বসে পড়েন। এতে আমন্ত্রিত সাংবাদিকরা দাঁড়িয়ে থাকলে আয়োজকরা বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার এনে রাখেন।

এ সময় মেয়র লতিফুর তার সামনের চেয়ারগুলোতে সাংবাদিকদের বসতে দেয়ায় তিনি রেগে যান। পরে সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে চেয়ারে লাথি মেরে ফেলে দেন।

এ ঘটনার পর সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে বাইরে এসে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের শান্ত করতে নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এসএম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আমিন, আটপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে আসেন।

বিষয়টি সমাধানে সাংবাদিকদের নিয়ে জেলা প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে বসেন তারা। একপর্যায়ে মেয়র লতিফুর রহমান সেখানে এসে হাজির হন। পরে তিনি তার এমন কর্মের জন্য হাত জোড় করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান।

লতিফুর রহমান ভুল স্বীকার করে বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিন। এমন আর হবে না।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, মেয়র লতিফুর রহমান এর আগেও বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অশালীন মন্তব্য করে আসছেন। আজ তিনি সাংবাদিকদের বসার চেয়ার লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছেন।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :