দুর্নীতির অভিযোগে বিসিসির ৩ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৩ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে কারণ দর্শনোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্তকৃত ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে-না তা জানাতে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে শোকজ নোটিশও দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন এ আদেশ দেন।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা হলেন, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, হাট-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম ও ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো. আজিজ শাহিন।

এছাড়া দ্বিতীয় দফায় শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে সাবেক জনংসযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেলকে। বরখাস্তকৃত ৩ কর্মকর্তাকে কয়েকমাস ধরে তাদের পদ থেকে সরিয়ে বিসিসির প্রশাসনিক শাখায় সংযুক্ত (ওএসডি) করে রাখা হয়েছিল। একইভাবে জনংসযোগ কর্মকর্তা আহসান রোমেলকেও প্রশাসনিক শাখায় সংযুক্ত (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে।

বিসিসির বর্তমান জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু জানান, মশিউর রহমান বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে প্রভাব খাটিয়ে তার বেতন উচ্চতর স্কেলে উন্নীত করেন। এছাড়া নামে-বেনামে একাধিক ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে বিসিসিতে কৃত্রিম অর্থ সংকট সৃষ্টি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছেন।

হাট-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অসংখ্য স্টল বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ রযেছে। এছাড়াও তিনি বরাদ্দ দেয়া স্টল ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়ক আজিজ শাহিনের বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিসিসির একাধিক স্টল বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স শাখার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকালে অবৈধপন্থায় অর্থ উপর্জনের জন্য অধিনস্ত কর্মচারীদের উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি কর্মচারীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা এনে হয়রানি করারও প্রমাণ রয়েছে।

এদিকে জনংযোগ কর্মকর্তার পদ থেকে অপসারণের পরও তথ্য গোপন রেখে ওই পরিচয়ে ঢাকায় তথ্য কমিশনের একটি কর্মশালায় অংশ নেন আহসান উদ্দিন রোমেল। এ কারণে তাকে এর আগে ৩ কর্মদিবসের সময় দিয়ে শোকজ নোটিশ দেয়া হলেও তিনি জবাব দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দ্বিতীয় বারের মতো শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে।

বিসিসির বর্তমান জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু আরও জানান, বিবিসি কর্তৃপক্ষ মনে করেন ওই তিনজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুন্নসহ আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে। তাই তাদের তিনজনকেই চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিধিমালার ৪৪(১) ধারা মোতাবেক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনজনেই খোরাকি ভাতা পবেন।

সাইফ আমীন/এমএএস/এমএস