টাঙ্গাইল শাড়ি নয়, ইয়াবা ব্যবসায় বিলাসবহুল বাড়ি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

টাঙ্গাইল শাড়ির অন্তরালে ইয়াবা ব্যবসায় কোটিপতি বনে গেছেন দেলদুয়ার উপজেলার জাকির (৩০)। বাপ-দাদা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের তথ্য সবার জানা থাকলেও সম্প্রতি কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়েছেন জাকির।

জাকিরের টাঙ্গাইল শাড়ির ব্যবসা রমরমা নাকি অন্য কিছু স্থানীয়দের এমন ধারণার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। গত ৮ অক্টোবর ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া মিঠু সিকদারের (৪৫) স্বীকারোক্তিতে জানা যায় মূল ঘটনা। গ্রেফতারকৃত মিঠু টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল সিকদার বাড়ির গফুর সিকদারের ছেলে।

তবে ইয়াবা ব্যবসার মূলহোতা একই গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. জাকির এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। দীর্ঘদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে টাঙ্গাইল শাড়ির আড়ালে ইয়াবার ব্যবসা করে কোটিপতি তিনি।

দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশের হাতে গ্রেফতার মিঠু আগে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। পরে জাকিরের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। জাকিরের কাপড়ের ব্যবসায় সহযোগিতা করতে থাকেন মিঠু।

কয়েকদিনের মধ্যেই তার আচরণ এবং আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা যায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে জাকির তাকে ভালো বেতন দেয় বলে স্থানীয়দের জানায়। পুলিশের হাতে এক হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার পর স্থানীয়রা জানতে পারে ইয়াবা ব্যবসার কথা। মিঠু গ্রেফতার হওয়ার দিন থেকেই জাকির পলাতক।

গ্রেফতারকৃত মিঠু পুলিশকে জানান, কাপড়ের ভেতর ইয়াবা বহন করায় কেউ সন্দেহ করতো না। তাই দীর্ঘদিন ধরেই জাকির কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে টাঙ্গাইলসহ ঢাকায় সরবরাহ করতেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহে সহযোগিতা করতেন মিঠু। ফলে মোটা অংকের টাকা পেতেন। জাকিরের আরও বেশ কয়েকজন সহযোগী রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে মিঠু। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা কাপড়ের বান্ডিল তল্লাশি করে কাপড়ের ভাঁজে বিশেষ কায়দায় রাখা এক হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু পুলিশকে জানান, এই শাড়ির বান্ডিল জাকিরের। শাড়ির মালিক জাকির চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে এসেছেন। এখন তিনি জাকিরের কাছ থেকে নিয়ে সরবরাহ করতে ট্রেনযোগে ঢাকায় এসেছেন। এ ঘটনায় ঢাকার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মুন্নাফ বাদী হয়ে মো. মিঠু ও জাকিরকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তবে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে জাকিরের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে বাবা সাহাবুদ্দিন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শাড়ির ব্যবসা করছেন। এই শাড়ি উৎপাদনের জন্য রয়েছে তাদের শতাধিক তাঁত কারখানা। বয়স হওয়ায় তিনি ছেলে জাকিরকে ব্যবসায় যুক্ত করেন। যদিও এখন শাড়ির ব্যবসা মন্দা। এজন্য জাকির ইয়াবার ব্যবসা করবে এটি বিশ্বাস করি না।

তার দাবি, আমার ছেলের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এরপরও যদি আমার ছেলে জাকির ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত হয় তাহলে অবশ্যয় শাস্তি চাই।

দেলদুয়ার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল হক ভুইয়া বলেন, বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে অবগত হওয়ার পর একটি অনুসন্ধান দলের মাধ্যমে জাকিরের খোঁজখবর নেয়া হয়। বর্তমানে জাকির পলাতক রয়েছেন। তবে জাকিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম