পাল্টে যাচ্ছে ভোলার বিচ্ছিন্ন চর মদনপুরের চিত্র

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ০১:২৬ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

 

ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চর মদনপুরের চিত্র দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করছে সেখানে। বছরের পর বছর উন্নয়ন বঞ্চিত প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা এবার পাচ্ছেন নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা।

এরই অংশ হিসেব ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সড়কবাতি। অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য চালু হয়েছে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও মদনপুরে ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় চারদিকে নির্মাণ করা হবে বেড়িবাঁধ। রাস্তা নির্মাণ হবে সিসি ঢালাই দিয়ে।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে সবাইকে নিরাপদে রাখার জন্য আরও কয়েকটি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে যাচ্ছেন এ চরের মানুষ।

Chor-Modan

রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে স্থানীয় পাটোওয়ারী বাজারে মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল এসব প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

এ সময় তিনি আরও জানান, মদনপুরের বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হয়েছে। সব কাজ শেষ হলে মদনপুর ইউনিয়নের মানুষ নিজেদেরকে আর বিচ্ছিন্ন ভাবতে পারবে না।

Chor-Modan

ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নু জানান, মেঘনা নদীতে ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভেঙে যাওয়া ইউনিয়ন মদনপুর গত ২০/২৫ বছর আগে আবারও জেগে উঠে। এরপর থেকে মানুষ নতুন করে বসতি শুরু করে। এ ইউনিয়নের মানুষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলেও বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একের পর এক দাবি পূরণ হচ্ছে।

জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নটি ১৯৮০ সালের দিকে মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে বিলীন হয়ে যায়। পরে ১৯৯৪ সালের দিকে এটি ফের জেগে উঠে। এরপর ২০০১ সাল থেকে নদীতে ঘর-বাড়ি ও জমি-জমা হারানো হাজার হাজার মানুষ ওই চরে বাসবাস শুরু করেন। বর্তামানে ১৬ বর্গ মাইল নিয়ে এ ইউনিয়ন। এখানে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করছেন। তাদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও মৎস্য শিকার।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএমজেড/পিআর