আগে ঘরের লোকের শাস্তি, পরে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : কাদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার নীতি ‘ঘরকে শাস্তি দিয়ে পরকে শেখানো’। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। আগে ঘরের লোককে শাস্তি দেব। তারপর অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার দুপুরে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের পরিচালনায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলে পদ পায়নি, তাদের পদ দিতে হবে। নেতাদের পেছনে ঘুরে বেড়ায়, পরিচয় দিতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ করছে কিন্তু আওয়ামী লীগে পদ নেই তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসুন।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ত্যাগী, আদর্শবান কর্মীদের সংগঠন। ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মৌসুমি পাখিদের গুরুত্ব দেয়া যাবে না। মৌসুমি পাখিরা মৌসুমে আসে, মৌসুম চলে গেলে পর্বতমালায় ফিরে যায়। আন্দোলন সংগ্রামের সময় মৌসুমি পাখিদের পাওয়া যাবে না। নেতাদের আচরণ ভালো করতে হবে। আচরণ ভালো না হলে উন্নয়নের মূল্য নেই। আওয়ামী লীগ চায় বিশুদ্ধ রক্ত। দূষিত রক্তের দরকার নেই। আওয়ামী লীগে বিশুদ্ধ রক্তের অভাব নেই। দূষিত রক্ত বের করে দিতে হবে।

Kader-Jessor-1

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গি হামলায় ঢাকা রক্তাক্ত হয়েছিল। সেই হলি আর্টিসান মামলায় আজ সাতজনের ফাঁসির রায় হয়েছে। এ রায় আইনের প্রতিষ্ঠার রায়। ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত হত্যার রায় হয়েছে। বুয়েটের আবরার হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। তারা গ্রেফতার হয়েছে, রেহাই পায়নি। তাদের বিচার হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগামী তিন বছরের জন্য শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি ও শাহীন চাকলাদারকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

এর আগে দুপুর ১২টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও পারভীন জামান কল্পনা।

প্রসঙ্গত, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম মিলনকে সভাপতি ও শাহীন চাকলাদারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে ৪৫৫ জন কাউন্সিলর ও প্রায় ১১ হাজার ডেলিগেট উপস্থিত ছিলেন।

মিলন রহমান/এমবিআর/পিআর