ভোলায় হঠাৎ করেই বেড়েছে ওএমএসের আটার চাহিদা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ০৮:১০ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

ভোলায় হঠাৎ করেই খাদ্য অধিদফতর পরিচালিত খোলা বাজারে বিক্রি (ওএমএস) করা সরকারি আটার চাহিদা তিনগুণ বেড়েছে। প্রতিদিনই ডিলারদের দোকানে এই আটা কিনতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ভিড় করছেন। সাধারণ দোকানের চেয়ে দাম কম হওয়ায় তারা দীর্ঘ লাইন দিয়ে এই আটা সংগ্রহ করছেন।

জেলা খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে ভোলা পৌর এলাকায় ১০টি ওএমএস দোকানে সরকারি খোলা আটা বিক্রি করা হয়। প্রতিটি দোকানে ১৮ টাকা কেজি দরে দৈনিক ১০০ জন গ্রাহকের কাছে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে বিক্রির জন্য ৫০০ কেজি আটা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সপ্তাহে ৬ দিন এই আটা পাওয়া যায়। এদিকে সারা বছরই স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষের কাছে এ আটার চাহিদা থাকলেও বর্তমানে চাহিদা বেড়েছে তিন গুণ। কিন্তু সেই অনুযায়ী বরাদ্দ নেই খাদ্য অধিদফতরের।

আলম, মানিক ও হারুণসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে এই মানের আটার দাম ৩০-৩৫ টাকা। কিন্তু আমরা ওএমএস ডিলারের কাছ থেকে মাত্র ১৮ টাকা দামে কিনতে পারছি। এতে আমাদের অনেক টাকা বেঁচে যাচ্ছে।

তারা আরও জানান, কেউ একসঙ্গে ৫ কেজির বেশি কিনতে পারে না। আরও বেশি পরিমাণে পাওয়া গেলে আমাদের জন্য ভাল হতো।

Bhola-OMS-2

শাহিদা, আয়েশা, পারভিন ও হাফসানা জানান, বাজারের আটার চেয়ে এ আটা অনেক পরিষ্কার। বাজারের আটার মধ্যে অনেক ভেজাল থাকে। কিন্তু ওএমএসের আটায় কোনো ভেজাল নেই। এছাড়া বাজারের চেয়ে দামও কম এবং ওজনও ঠিকমত দেয়া হয়। তারাও জনপ্রতি ৫ কেজির বেশি আটা দেওয়ার দাবি জানান।

জেলা খাদ্য অধিদফতর অনুমোদিত ‘খাঁন ফ্লাওয়ার’ মিলের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খাঁন জানান, ভোলার ১০টি ওএমএস দোকানের জন্য প্রতিদিন ৫ টন করে আটা সরবারাহ করা হয়। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে কোনো প্রকার ভেজাল ছাড়াই সম্পূর্ণ ভাল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ আটা তৈরি করা হয়। যার কারণে সাধারণ দোকানের বেশি দামের আটার চেয়ে এ আটা অনেক ভাল ও মান সম্মত। মানুষের কাছে দাহিদাও অনেক বেশি।

জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌয়ুবুর রহমান জানান, ভোলায় ৫টি ওএমএস দোকানের মাধ্যমে দৈনিক ৫ টন আটা বিক্রির কথা। কিন্তু সবার মাঝে সুন্দরভাবে এ আটা বিতরণের জন্য আমরা ১০ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে আটা বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত ওজন ও ভেজালের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মান বাজারের খোলা আটার চেয়ে অনেক ভাল হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি। দাম কম এবং মান ভাল হওয়ায় বর্তমানে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে সে অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এমএমজেড/পিআর