যবিপ্রবিতে গৃহকর্মীকে পিটিয়ে জখম করলেন ব্যাংক কর্মকর্তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০২:৪৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সখিনা খাতুন নামে এক গৃহকর্মীকে পিটিয়ে জখম করেছেন মাজহারুল ইসলাম নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা। শনিবার (৩০ নভেম্বর) উপাচার্যের বাসভবনের পাশে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সখিনা খাতুন যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। নির্যাতনকারী মাজহারুল ইসলাম পূবালী ব্যাংক যশোর শাখার কর্মকর্তা ও যবিপ্রবির ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক শাহানাজ আক্তারের স্বামী।

সখিনা খাতুন অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে মাজহারুল তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। দুই সন্তানের জননী সখিনা তার স্বামী মারা যাওয়ার পর অস্বচ্ছলতার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে ওই শিক্ষকের বাসায় কাজ করতেন।

সখিনা খাতুন বলেন, মাজহারুল ইসলাম প্রায়ই আমাকে বকাঝকা ও গালিগালাজ করতেন। একপর্যায়ে আমি কাজ ছেড়ে দিব বলে সিদ্ধান্ত নিই। যার প্রেক্ষিতে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আমাকে জখম করা হয়েছে। তবে শিক্ষিকা শাহানাজ আক্তার এ বিষয়ের জন্য দায়ী নয় বলেও তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দীপক কুমার মন্ডল সখিনার আঘাত পর্যবেক্ষণ করে জানান, তাকে খুবই খারাপভাবে আঘাত করা হয়েছে। লাঠির আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং টিস্যু খুবই খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে ডরমেটরি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ওই গৃহকর্মী কোনো মামলা করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

সখিনার বাবা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক ৩০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার নামে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে প্রভাষক শাহানাজ আক্তার বলেন, ওই গৃহকর্মী আমার বাচ্চাকে মেরে চলে যাচ্ছিল। এ সময় আমার স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে কাঠি দিয়ে দুটি আঘাত করেছে। এতে আহত হওয়ার কথা নয়। এরপর ওই মহিলা আমার ঘরের দরজায় লাথি মেরে গালিগালাজ করে বাইরে চলে যায়। এরপর এক, দেড় ঘণ্টা সে বাইরে ছিল। পরে ভ্যানে করে এসে চিকিৎসা নেয়ার কথা বলেছে।

তিনি বলেন, তার আঘাতের চিহ্নটি সাজানো। এখন সে এক-দেড়লাখ টাকা দাবি করছে এবং ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে।

মিলন রহমান/আরএআর/এমকেএইচ