মায়ের মামলায় ৫ মাস পর মেয়ের লাশ উত্তোলন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মায়ের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে দাফনের প্রায় ৫ মাস পর এনজিও কর্মী লিজা আক্তারের (২২) লাশ উত্তোলন করা হয়েছে ।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব আদকানী পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার উত্তোলন করা হয়। এসময় কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) অরুপ কুমার উপস্থিত ছিলেন। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লিজা আক্তার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরস্থ গুড নেইবারস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার সিডিপির এসএস সার্পোটার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই বিকেলে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর-কোনাগাঁও সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন লিজা। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ওই সময় ময়নাতদন্ত ছাড়া তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছিল।

কিন্তু গত ২৪ আগস্ট লিজা আক্তারের মা আলেমা বেগম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেল ৩টায় অফিসের কাজে লিজা পূর্ব কোনাগাঁও যায়। রিকশা বা সিএনজিযোগে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক (৪০) ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদকে লিজা আপত্তি জানানোর পরও জোরপূর্বক একজন সহকর্মীর মোটরসাইকেলে যেতে বাধ্য করা হয়। ওই সহকর্মী বিভিন্ন সময় লিজার সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। লিজা বারবার বাধা দেয়ার পরও দ্রতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় লিজা মাটিতে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।

এ ঘটনায় কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে ওই তরুণীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আরিফুর রহমান জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

রিপন দে/এমএএস/জেআইএম