২০ হাজার ফল-ফুল গাছে সেজেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯
ছবি : এসব বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে চন্দন, ছালমোগড়া, মহুয়া, হরিতকি, বহেরা, আমলকি, সোনালু, পিতরাজ, জগডমুর, বিলাতি গাব ও দেশি গাব।

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেতরের পথ ধরেই হাঁটলেই আপনাকে স্বাগত জানাবে বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির বাহারি উদ্ভিদ। প্রায় ৪০ প্রজাতির বিপন্ন জাতের ২০ হাজার বৃক্ষের মেলবন্ধনে নতুন করে সেজেছে সাফারি পার্ক।

পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির এসব উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি ওষুধি ও ফলদ বৃক্ষের মাধ্যমে পার্কে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকা প্রায় চার হাজার প্রাণিদেহের খাবারের জোগানে সহায়তা করবে।

safari-park

ছবি : পার্কের ভেতরের পথ ধরেই হাঁটলেই স্বাগত জানাবে বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির বাহারি উদ্ভিদ

সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পার্ক প্রতিষ্ঠার পর বর্ধিতাংশের কিছু এলাকাজুড়ে ছিল শাল-গজারির কপিচ ও আকাশমনি জাতের বৃক্ষ। অন্যান্য এলাকা ছিল ফাঁকা। বিশাল এলাকাজুড়ে প্রাণিদের প্রাকৃতিকভাবে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে খাবার সংগ্রহের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে পার্কটি গড়ে তুলতে বায়োডাইভারসিটি পার্ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।

যার অর্থায়ন করে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির ২০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়। এসব বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে চন্দন, ছালমোগড়া, মহুয়া, হরিতকি, বহেরা, আমলকি, সোনালু, পিতরাজ, জগডমুর, বিলাতি গাব, দেশি গাব, খইয়া বাবলা, ঢাকিজাম, বট, পাকুড়, ছাতিয়ান, শিমুল, কতবেল, সিভিট, নাগলিঙ্গম, লোহাকাঠ, গর্জন, হলুদ, ডেউয়া, চাপালিশ, পলাশ ও রক্তন বৃক্ষ প্রমুখ। এসব বৃক্ষের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায়ের মাধ্যমে প্রাণিদের অভয়ারণ্য হিসেবে পার্কটি গড়ে উঠতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

safari-park

ছবি : ৪০ প্রজাতির বিপন্ন জাতের ২০ হাজার বৃক্ষের মেলবন্ধনে এভাবেই সেজেছে সাফারি পার্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিনোদনের জন্য দেশের বৃহত্তম এই পার্কটি গড়ে তুলেছে। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি প্রায় চার হাজার প্রাণি রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় পার্কে প্রতিনিয়ত প্রাণি থেকে বাচ্চা জন্মানো নিয়মিত ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, বিপুল সংখ্যক এই প্রাণির খাবারের পেছনে সরকারের বিপুল অর্থের ব্যয় হয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ খাদ্যের জোগান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পার্কে থাকা প্রাণিদের প্রাকৃতিকভাবে খাবার উৎপাদনের লক্ষ্যে খাদ্য উপযোগী ৪০ প্রজাতির বিপন্ন ও বিরল ওষুধি ও ফলদসহ মোট ২০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। প্রাণিদের প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবার সরবরাহের জন্য পার্কের একটি নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে নানা প্রজাতির ঘাস, মিষ্টি লাউ, শাক-সবজি, ভুট্টা, ধান, গম, দেশি টক বড়ই, দেশি নানা ধরনের ফল চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিরল ও বিপন্ন নানা প্রজাতির উদ্ভিদ রক্ষার মাধ্যমে প্রাণিদের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাবারের জোগান দিতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিহাব খান/এএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]