বঙ্গবন্ধুর মতো মানবিক মানুষ হয়ে দেশ ও দশের সেবায় নিযুক্ত হও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:০৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০২০

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, একজন চিকিৎসককে আগে মানবিক মানুষ হতে হবে। ডাক্তারি সেবামূলক পেশা। এ পেশায় জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠে। এমনটি হয়ে থাকলে চিকিৎসকের প্রতি সেবাপ্রার্থীদের বিশ্বাস জন্মাবে না। বিশ্বাস এবং ভালোবাসার সমন্বয়ে মানবিক আচরণ যুক্ত করতে পারলে চিকিৎসক হিসেবে পূজনীয় হওয়া যায়।

কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের পরিচিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সভায় তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু না হলে আজ স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়া সম্ভব হতো না। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধ বিজয়ের পর ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান। সেখান থেকে লন্ডন ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে অপূর্ণ স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দেন বঙ্গবন্ধু। তার সেই ঐতিহাসিক দিনে তোমরা (নতুন ভর্তিকৃত মেডিকেল শিক্ষার্থীরা) মানব সেবার অবিস্মরণীয় পেশায় যুক্ত হতে পেরেছ। তাই বঙ্গবন্ধুর মতো মানবিক মানুষ হয়ে দেশ ও দশের সেবায় নিযুক্ত হও। এসময় তিনি যোগ্য পিতার উত্তরসূরী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসা পেশার সার্বিক অগ্রগতির ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।

Coxsbazar

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সুবাস চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে ও কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রুপস পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক ও বিএমএ'র কেন্দ্রীয় সাবেক সেক্রেটারি ডা. কাজি শহিদুল আলম, বিএমএ কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফরহাদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ।

Coxsbazar

শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ঢাকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবদুল মজিদ। তিনি মেডিকেলেে চান্স পাওয়ার মতো আগামীতেও মানবসেবায় সেভাবে অবদান রেখে অভিভাবকদের মুখ উজ্জ্বল রাখতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।

নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী রাহাত হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌস। রাহাত হোসেনের রাজমিস্ত্রী বাবা ও নিরক্ষর গৃহিণী মায়ের সন্তান হয়েও চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে চিকিৎসা বিদ্যা শাখায় ভর্তি হতে পেরে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া ও অভিভাবক এবং শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Coxsbazar

জান্নাতুল ফেরদৌসও মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে মেডিকেলে মেধাতালিকায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে চান্স পাওয়ার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন।

অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বিগত ১১টি ব্যাচের প্রতিনিধি ও অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।