৫২৭৫ বার খতমে কোরআন করিয়েছেন শামীম ওসমান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০

মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে হাফেজদের দিয়ে ৫ হাজার ২৭৫ বার কোরআন খতম করিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর কবরস্থ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।

শামীম ওসমান বলেন, কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়াই স্বেচ্ছায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হাফেজ সাহেব ও এতিমরা ৫ হাজার ২৭৫ বার কোরআনে খতম করেছেন। এই খতমে কোরআন আল্লাহর নবীর নামে বখশে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং সকল শহীদদের নামেও বখশে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার জন্য দোয়া করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীব্যাপী মহামারিতে আজ মানব সম্প্রদায় কঠিন মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ ও তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। তাই পবিত্র কোরআনখানির মাধ্যমে এই পন্থাকেই আমি সর্বোত্তম বলে মনে করেছি।

তিনি বলেন, এই মসজিদের পাশেই কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন আমার দাদা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ভাষা সৈনিক খান সাহেব ওসমান আলী, বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়া আমার মা ভাষা সৈনিক নাগিনা জোহা, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক আমার বাবা একেএম সামুসজ্জোহা, যিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে মুক্ত করতে গুলি খেয়েছিলেন। এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান। যিনি বিয়ের পরদিনই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রতিরোধ যুদ্ধে চলে গিয়েছিলেন। মূলত যে নারায়ণগঞ্জে জাতির জনকের ব্যাপক বিচরণ ছিল, যে নারায়ণগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জবাসীকে বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন সেই নারায়ণগঞ্জের মাটিতে ব্যাপকভাবে মুজিববর্ষ পালনের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতিতে আল্লাহকে খুশি করাই এখন সর্বোত্তম এবং একমাত্র কাজ আমাদের।

samim-usman

শামীম ওসমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা যারা হিমালয় পর্বতের মত শোক নিয়ে বুকে চেপে আছেন তাদের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। কারণ তারা এখনও চিৎকার দিয়ে কাদঁতে পারেন না। তারা হয়তো সেদিনই চিৎকার করে কাদঁবেন, কান্নার নোনা জলে বুকের জমানো শোকের পাথর হয়তো সেদিনই গলবে যেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারবেন। এদেশের প্রতিটি মানুষের পেটে ভাত থাকবে, মাথার ওপর ছাদ থাকবে।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মত নেতা হাজার বছরেও আর আসবে না, কিন্তু আমরা মনে করি সেই বঙ্গবন্ধুর ভূমিকায় ইতিমধ্যেই উত্তীর্ন হয়েছেন মানবতার মা শেখ হাসিনা। কারণ সামনে থেকে বারবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর আরেকজন নিয়েছেন বঙ্গমাতার ভূমিকা। যিনি পেছন থেকে তার বড় বোনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার দেখা মতে শেখ রেহানা এখনও শোকে পাথর হয়ে আছেন।

শামীম ওসমান বলেন, সারা দুনিয়ার মানুষ করোনাভাইরাসের থাবায় আজ দিশেহারা। এই মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতেও আমরা দোয়া করেছি। সকল ধর্মের মানুষকে যেন আল্লাহ ক্ষমা করেন, আল্লাহ যেন হেফাজত করেন। আমাদের উচিত যার যার সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাওয়া। আতঙ্কিত না হয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে যেন আমরা সকলে সকলের পাশে দাঁড়াই। এই বিপুল পরিমাণ পবিত্র কোরআন খতমের ফজিলত যেন আল্লাহ আমাদের দান করেন, সদকায়ে জারিয়া হয়ে যেন আল্লাহ সমস্ত পৃথিবীর মানুষকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করেন, হেফাজত করেন।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]