কক্সবাজারে দোকানপাট-শপিং মল বন্ধের নির্দেশ
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে করোনার প্রাদুর্ভাব ক্রমেই বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মার্কেটমুখী মানুষের স্রোত। এতে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কায় কক্সবাজার জেলার সব ধরনের দোকানপাট ও শপিং মল আবারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিকেল ৪টার পর সব ধরনের পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সোমবার ( ১৮ মে) বিকেল ৪টা থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞিপ্তিতে বলা হয়, করোনার বিস্তার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে জেলার অভ্যন্তরীণ দোকানপাট ও শপিং মল শর্ত সাপেক্ষে চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু গত ৫ দিন মার্কেট ও শপিং মল সমূহ সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতীয়মান হয় যে, মার্কেট ও শপিং মলসমূহে মানুষের উপচে পড়া ভিড়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অসচেতনতা এবং আগত ক্রেতা-বিক্রাতা কর্তৃক সরকার প্রদত্ত শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সম্পূর্ণ অবহেলা প্রদর্শনের কারণে বর্ণিত শর্ত সমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। ফলে এ জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
এমতাবস্থায় জনসাধারণ তথা কক্সবাজারবাসীর সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং মৃত্যুঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা পূর্বক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলা সদরসহ সকল উপজেলা পর্যায়ে দোকানপাট, শপিং মলসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ আদেশ ১৮ মে বিকেল ৪টা থেকে কার্যকর হবে।
তবে পণ্যবাহী পরিবহন এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়াও কাঁচাবাজার, অন্যান্য সরকার ঘোষিত কার্যক্রম চলমান থাকবে। এসব নির্দেশনা মেনে না চললে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৬ মে) জেলায় একদিনেই ২৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত এসেছে। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ছয়জন, চকরিয়ার আটজন, পেকুয়ার একজন, উখিয়ার সাতজন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী একজন ও বান্দারবানের লামা উপজেলার একজন রয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় শনিবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭৫ জন।
সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম