ঈদের আনন্দে স্পিরিট পানে রংপুরে আরও ৩ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২৭ মে ২০২০

রংপুরে বিষাক্ত স্পিরিট পানে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নুর ইসলাম (৩০), রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১) ও মোস্তফা কামাল (৩০)।

এদের মধ্যে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে সরোয়ার ও মোস্তফা কামাল এবং বুধবার (২৭ মে) সকালে নুর ইসলাম মারা যান। তিনজনেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ দল প্রায়ই শ্যামপুর বাজার এলাকায় মদ ও বিষাক্ত স্পিরিট পানের আসর বসায়। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে তাদের আসর আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। ঈদের আনন্দে গত সোমবার (২৫ মে) শ্যামপুর বাজার এলাকায় নেশাজাতীয় নিষিদ্ধ স্পিরিট পান করেন কয়েকজন। একপর্যায়ে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে সরোয়ার হোসেন ও মোস্তফা কামাল এবং বুধবার সকালে নুর ইসলাম মারা যান। মঙ্গলবার বিকেলে মোস্তফা ও সরোয়ারের মরদেহ তড়িঘড়ি করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একটি সূত্র জানায়, ওই গ্রুপের আরও কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, নিহত দুইজনের বাড়ি চন্দনপাট ইউনিয়নের খইল্লাপাড়া ও পুটিমারী এলাকায় এবং একজনের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে।

রংপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, নুর ইসলামের মৃত্যুর পর বিষয়টি জানাজানি হয়। নেশা জাতীয় স্পিরিট পান করে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেশার উৎস এবং সরবরাহকারীকে খুঁজে বের করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

এর আগে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাটে বিষাক্ত মদ পানে সোমবার ও মঙ্গলবার দুইদিনে ছয়জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও সাতজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জিতু কবীর/আরএআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]