বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানির পক্ষে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৬:৩৬ পিএম, ০২ জুলাই ২০২০

দ্বিতীয় দিনের মতো বৃহস্পতিবারও (২ জুলাই) বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। বেনাপোল বন্দরে তিন মাসের অধিক সময় ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশি পণ্য রফতানির দাবিতে এ এলাকার রফতানিকারক সমিতি এক জোট হয়ে বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে এ পথে আমদানি বন্ধ করে দেয়। তবে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় সহস্রাধিক পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকা পড়েছে দুই দেশের বন্দরে। ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও চাচ্ছেন- যে প্রক্রিয়ায় আমদানি হচ্ছে একই প্রক্রিয়ায় রফতানিও চলুক।

করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে গত ২২ মার্চ থেকে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো রফতানি পণ্য গ্রহণ করছে না। তবে ৭ জুন থেকে ভারত বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি চালু করলেও রফতানি পণ্য নিচ্ছে না। ফলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও ব্যাহত হচ্ছে রফতানি। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রফতানিকারকরা। বৈদেশিক আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।

দেশে স্থলপথে যে রফতানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। প্রতি বছর এ বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ৯ হাজার টন বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। ফলে এ বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা।

বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন- ভারতীয় চালকরা পণ্য নিয়ে বেনাপোলে ঢুকতে পারলে বাংলাদেশি চালকরা কেন পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে পারবেন না? তাদের দাবি- বেনাপোল বন্দর এলাকা এখন করোনামুক্ত, গ্রিন জোনে রয়েছে। ফলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। ট্রাক চালকরা সুরক্ষা পোশাক পরেই ভারতে যাবেন এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও কোনো কথার কর্ণপাত করছে না ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল থেকে পেট্রাপোলে ট্রাক প্রবেশের সবুজ সংকেত না মেলা পর্যন্ত ভারতের ট্রাককেও বেনাপোল বন্দরে ঢুকতে দেয়া হবে না।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য গ্রহণ করছে না। ফলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও রফতানি হয়নি কিছুই। এমনিতেই ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। একতরফাভাবে রফতানি আটকে রাখায় এই ঘাটতি আরও বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আমরা বহু দেন-দরবার করেও বাংলাদেশের পণ্য ভারতে রফতানি করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে বুধবার সকাল থেকে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

jagonews24

এদিকে পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরাও চাইছেন বেনাপোল থেকে পণ্য আমদানি শুরু হোক। পেট্রাপোল এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পরিতোষ বিশ্বাস বলেন, বেনাপোল থেকে পণ্য আমদানির কাজ এই মুহূর্তেই শুরু হোক। না হলে বহু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকারও। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত কাজ শুরু হোক। ব্যবসা বন্ধ থাকায় দুই পারের অসংখ্য দিনমজুরও আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তাদের কথাও ভারত সরকারকে ভাবতে হবে।

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আঞ্চলিক পরিবহন দফতরের রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ জানান, বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য আমদানি শুরু করার জন্য রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে তিনি চিঠি দিয়েছেন।

পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেই আমাদের অ্যাসোসিয়শনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য ফের সচল করতে হবে।

পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথোরিটির ম্যানেজার শুভজিৎ মন্ডল বলেন, বেনাপোল থেকে পেট্রাপোল বন্দরে পণ্য আমদানির কাজ শুরু করার জন্য রাজ্যে সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসেনি। রাজ্যের কোনো স্থলবন্দর থেকেই পণ্য আমদানির জন্য রাজ্য সরকার এখনও অনুমতি দেয়নি। নির্দেশনা এলেই বেনাপোল বন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে কোনো বাধা থাকবে না।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর খোলা আছে। বাণিজ্য সচলের জন্য তারা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জামাল হোসেন/আরএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]