টেনিস বলের পরিবর্তে এলো আমদানি নিষিদ্ধ ৮০ টন আফিম

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২০

মোংলা বন্দর জেটিতে ঘোষণা বহির্ভূত আমদানি নিষিদ্ধ চার কন্টেইনারভর্তি ৮০ মেট্রিক টন আফিম (পোস্তদানা) জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এ আফিম জব্দ করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. হোসেন আহম্মেদ।

হোসেন আহম্মেদ বলেন, নিষিদ্ধ এই পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার আয়শা ও তাজ ট্রেডার্স এবং স্থানীয় শিপিং এজেন্ট খুলনার মেসার্স ওশান ট্রেড লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, টেনিস বল আমদানির কথা থাকলেও আমদানিকারকরা আফিম আনছেন- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (আমদানি পণ্য নম্বর-২০২০/৫৩৫) নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। মোংলা বন্দরের ২ নম্বর জেটিতে আমদানিকৃত ২০ ফিটের চারটি কন্টেইনারে (নম্বর-গজকট-৭৮১৮২৭১, গজকট-৮১১৭৭০০, গজকট-১১৭০৯৯৬ ও গজকট-৬৭৯৩৫১৭) এই আফিম আনা হয়।

মোংলা বন্দরের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার মো. সোহাগ বলেন, আমদানি নিষিদ্ধ এই পণ্য নিয়ে গত ১০ আগস্ট সাইপ্রাসের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি স্যানজোর্জিও’ মোংলা বন্দরের জেটিতে আসে। জাহাজটিতে থাকা ৩১৭টি কন্টেইনারের মধ্যে চারটি কন্টেইনারে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আফিম (পোস্তদানা) ছিল। এমন গোপন সংবাদে জাহাজটি বন্দর জেটিতে আসার আগেই পণ্যবাহী কন্টেইনার আটক করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এরপর ১০ আগস্ট বন্দর জেটিতে আসার পরই ২০ ফুটের (গজকট-৭৮১৮২৭১, গজকট-৮১১৭৭০০, গজকট-১১৭০৯৯৬ ও গজকট-৬৭৯৩৫১৭) কন্টেইনারগুলোকে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। দুপুরে এসব কন্টেইনার খুলে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়।

মোংলা বন্দরে আসা জাহাজ ‘এমভি স্যানজোর্জিও’ স্থানীয় শিপিং এজেন্ট মেসার্স ওশান ট্রেড লিমিটেডের খুলনার সহকারী ম্যানেজার মো. মেহেদি হাসান বলেন, আমরা শুধু ওই জাহাজে থাকা কন্টেইনারগুলো আমদানি করেছি, তবে কন্টেইনারের মধ্যে কি পণ্য ছিল তা আমরা জানতাম না। এটা ওই কন্টেইনারে পণ্য আমদানিকারকরাই ভালো বলতে পারবেন।

পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার মেসার্স তাজ ট্রেডার্সের মালিক মো. সাব্বির হোসেন বলেন, দেশে আসা পণ্য আমি আমদানি করিনি। টেনিস বল আমদানির জন্য টাকা পাঠিয়েছি। এটা ভুল করে মালয়েশিয়ার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিউসাইন করপোরেশন পাঠিয়ে থাকতে পারে। কারণ ওই প্রতিষ্ঠান টেনিস বল বিক্রির পাশাপাশি পোস্তদানাও বিক্রি করে।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সের নেতা মো. কবির হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পণ্য আমদানিকারদের বক্তব্য হাস্যকর, এটা পুরোই নাটক। তারা মোংলা বন্দরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব পণ্য আমদানি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা ঘটবে না।

মোংলা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. শামসুল আরেফিন খান বলেন, জব্দকৃত পণ্য কীভাবে বন্দরে এসেছে তা যাচাই-বাছাই করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএম/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]