মা-মেয়েকে নির্যাতন করা চেয়ারম্যান বললেন আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৬ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২০
কক্সবাজারে গরু চুরির অপবাদে মা ও দুই মেয়েকে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

গরু চুরির অপবাদে মা ও দুই মেয়েকে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলাটি করেছেন। মামলার বাদী হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত অন্য তিন আসামি হলেন- উত্তর হারবাং বিন্দারবান খিলের জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮), মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯) ও এমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২)। এই তিনজনকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার বাদী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ওই নারী মামলায় উল্লেখ করেছেন, তারা রাঙ্গনিয়া পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই বাসা থেকে ২১ আগস্ট দুপুরে বাদী, তার ছেলে, ছেলের বন্ধু এবং দুই মেয়েকে নিয়ে চকরিয়া উপজেলার হায়দার নাশি এলাকায় ছোট মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তারা প্রথমে মাইক্রোবাসযোগে সাতকানিয়ার কেরানি হাটে আসেন। সেখান থেকে একটি সিএনজিতে করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে দক্ষিণ দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারার পূর্বপাশের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন।

তারা সিএনজিতে করে চকরিয়ার হারবাং লাল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে ছয়জন তাদের ধাওয়া করেন। এতে সিএনজিচালক ভয় পেয়ে হারবাং পহর চাঁদা এলাকায় নির্মাণাধীন রেললাইনের পাশে নিয়ে যান তাদের। সেখানে ওই মোটরসাইকেল আরোহীরা তাদের আটক করে মারধর করতে থাকেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল কেড়ে নেন তারা। পরে তাদের কোমরে রশি বেঁধে মারতে মারতে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান।

ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হলে চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম তাদের গালমন্দ করে বাদীর মেয়ের তলপেটে লাথি মারেন। এরপর চেয়ার দিয়ে মারতে থাকেন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের হাতে থাকা লাঠি দিয়েও আঘাত করেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উদ্ধার করে তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী বলেন, গরু চুরির ঘটনা মিথ্যা ও অপবাদ। তাদের গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করে কোমরে রশি বেঁধে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। যা চরম মানহানিকর।

মামলার আসামিদের মধ্যে সোমবার ভোরে নাছির উদ্দিন (২৮), নজরুল ইসলাম (১৯) ও জসিম উদ্দিনকে (৩২) গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের ওই দিনই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

চকরিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মামলা রুজু করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

চকরিয়ার হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিনারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার সময় চট্টগ্রামে ছিলাম আমি। মা-মেয়েকে কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা মোবাইল ফোনে জানতে পেরে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে জনতার কবল থেকে উদ্ধার করেছি।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।