গ্যাস পাইপে লিকেজ ও মসজিদ কমিটির অবহেলায় বিস্ফোরণ
নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটি গঠনের ১১ দিন পর প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের হাতে এ প্রতিবেদন তুলে দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এটিএম মোশারফ হোসেন, ডিপিডিসির পূর্ব বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোরশেদ, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন, তিতাস গ্যাসের নারায়ণগঞ্জের উপ-মহাব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম।
তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজ, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট এবং মসজিদ কমিটির অবহেলার কারণে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে তিতাস গ্যাস পাইপের লিকেজ, বিদ্যুৎ বিভাগের ত্রুটি, মসজিদ কমিটির গাফিলতি, ভবন নির্মাণে রাজউকের অব্যবস্থাপনা এবং মসজিদের সামনের রাস্তা নির্মাণে অবহেলার বিষয়টি ধরা পড়েছে। এসব অনিয়ম রোধে তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসকের কাছে ১৮টি সুপারিশ করেছে। তবে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এককভাবে কাউকে দায়ী করা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তদন্ত কমিটি ১০ কার্যদিবস ধরে তিতাস, ডিপিডিসি ও মসজিদ কমিটিসহ প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দিয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন ও তাদের দেয়া সুপারিশ বিবেচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এই তদন্ত প্রতিবেদন কেবিনেট সচিবের কাছে পাঠানো হবে।
৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের সময় বায়তুস সালাত জামে মসজিদের ভেতর ঘটে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই মৃত্যুকূপে পরিণত হয় মসজিদটি। ঘটনাস্থলে দগ্ধ হন ৪২ জন। গুরুতর দগ্ধ ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ৩১ জন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।
শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর