থানায় চোখবাঁধা যুবলীগ নেতার ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে হইচই পড়ে গেছে ফরিদপুরে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জিনসের প্যান্ট ও কোট পরা এক ব্যক্তির হাতে হাতকড়া। দুই চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা। তার সামনের চেয়ারে এক ব্যক্তি। তিনি বলছেন, ‘তোর কী হইছে। কে মারছে। আমি তো তোগের লোক না। তোগের লোক হলে থানায় থাকতে পারতাম। আমি এমপি নিক্সন চৌধুরীর লোক।’

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে নিজের পরিচয় দেয়া ব্যক্তি হলেন পরিদর্শক আহাদুজ্জামান। তিনি সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ওই পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব পাওয়ার আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন তিনি। আর ভিডিওতে হাতকড়া পরা ব্যক্তি হলেন ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাত।

গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আরাফাত তার নিজের ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি আপলোড করেন। এরপরই সেটি ভাইরাল হয়। এ ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান।

যুবলীগ নেতা শেখ আরাফাত বলেন, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কাউলিবেড়া এলাকা থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। হাতকড়া পরিয়ে গাড়ির মধ্যে চার পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। পুখুরিয়া এলাকায় তাকে ডিবি পুলিশের গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। তখন তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। নানাভাবে ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, ‘তোকে ক্রসফায়ারে দেব। সকালের সূর্য তুই দেখতে পারবি না। আজই তোর শেষ রাত।’

আরাফাত আরও বলেন, রাতে তাকে এসপির কার্যালয়ের তিন তলায় ডিবির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চেয়ারে পিটমোড়া করে বাঁধা হয়। এরপর তার দুই পায়ে বেতের লাঠি দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট পেটানো হয়। এরপর ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার পেটানো হয়।

১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আহাদুজ্জামান বলছেন, ‘আমি তো তোগের লোক না। তোগের লোক হলে (ভাঙ্গায়) থানায় থাকতে পারতাম।’

আহাদুজ্জামান ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত ডিবির ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে সদরপুরের চন্দ্রপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আরাফাতকে চোখবাঁধা অবস্থায় পেয়েছি। তাকে মারধর করা হয়েছে কি না জানি না। এর আগে আরাফাত আমাকে বলেছিলেন, আমি নাকি নিক্সন চৌধুরীর লোক। এর উত্তরে আমি বলেছি, নিক্সন চৌধুরীর লোক হলে আমি থানাতেই থাকতে পারতাম।’

প্রসঙ্গত, ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী নিক্সন। গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহকে পরাজিত করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙ্গা থানা পুলিশ কাজী জাফরউল্লাহর সমর্থকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, মারধর ও মামলা দেয় বলে অভিযোগ করে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগসহ সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তারা।

ভিডিওটির বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ওই ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জামাল পাশাকে এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) গাজী রবিউল ইসলাম।

এ বিষয়ে এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন, আরাফাত অনেক মামলার আসামি। বিষয়টি পরিকল্পনা করে হয়ত সাজিয়েছে। ওই ঘটনার আমি কিছু জানি না।

সিকদার সজল/এফএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]