ছেলেদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চান বৃদ্ধ বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২০

মারধর করে জোরপূর্বক জমি লিখে নেয়ার অভিযোগে ছেলেকে গ্রেফতার করে তার বিচার দাবি করেছেন বৃদ্ধ বাবা। ছেলের বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই বাবা।

পুলিশের কাছেও একাধিকবার নালিশ করে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বোর্ডবাজারের কামারজুরি এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মো. জহিরুল হক। বুধবার সাংবাদিকদের কাছে এমনই অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৭ বছর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চাকরি করে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ২০০৭ সালে গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজারের কামারজুরি এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি কেনেন তিনি। তাতে আধাপাকা বাড়ি তৈরি করে ছেলে একরামুল হক (৪৬) এবং আনোয়ার হোসেনসহ (৪৪) পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস করতেন।

চাকরি থেকে অবসরের সব টাকা তার বড় ছেলে ব্যবসার কথা বলে কৌশলে আত্মসাৎ করেন। এরপর শেষ সম্বল বাড়িটি লিখে নেয়ার জন্য ছেলেরা বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতন শুরু করেন।

jagonews24

পরবর্তীতে তার স্ত্রী বাদী হয়ে গত ২০১৭ সালের ছেলেদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ছেলেরা জেল খেটে বের হন। পরে জহিরুল হকের স্ত্রী ২০১৮ সালে মারা গেলে বাড়ি লিখে না দেয়ায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে ছোট মেয়ের ভাড়া বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেখানে গিয়েও ছেলেরা তাকে ও তার মেয়েকে মারধর করেন। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানায় একটি মামলা করা হয়।

কিছুদিন পর জহিরুল হক জানতে পারেন তার দুই ছেলে আঙ্গুলের ছাপ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া দলিলের মাধ্যম্যে বাড়িটি রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। জাল দলিলের বিষয়ে গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে গাছা থানায় এজাহার দাখিল করলে পুলিশের সহযোগিতায় বাড়িটি তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

জহিরুল হক অভিযোগ করেন, এখনও বড় ছেলে একরামুল হক বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। গাছা থানায় আবারও একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় অসুস্থ অসহায় ৭০ বছরের বৃদ্ধ জহিরুল হক প্রসাশনের কাছে প্রাণভিক্ষা এবং বসবাসের বাড়িটুকু ফেরত পেতে আবেদন জানিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]