বাগেরহাটের শিকদার বাড়িতে এবার পূজা হচ্ছে সীমিত পরিসরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২০

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের বেশির ভাগ মানুষের সবচেয়ে বড় উৎসব এটি। যার কারণে উন্মাদনার শেষ থাকে না। কিন্তু ভাবতে অবাক লাগে, এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা বাংলাদেশে হয়। হ্যাঁ, বাংলাদেশের বাগেরহাটের শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজা এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা হিসেবে স্বীকৃত।

তবে এবার সেই শিকদার বাড়ির দুর্গা মন্দিরে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে পূজা উদযাপিত হচ্ছে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে সীমিত পরিসরে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবার দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাগেরহাট সদর উপজেলার হাকিমপুর শিকদার বাড়িতে জমকালো চোখ ধাঁধানো আয়োজন নেই। তবে কড়া স্বাস্থ্য সচেতনতার মধ্যে দিয়ে এবার পূজা উদযাপিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে। এবার মূল মণ্ডপে শুধু দুর্গার প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া আর কোনো আয়োজন করা হয়নি।

করা হয়নি বিস্ততৃর্ণ আলোক সজ্জা। মন্দির কর্তৃপক্ষ বসতে দেয়নি কোনো দোকান-পাট। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সীমিত পরিসরে দর্শনার্থীদের মন্দিরে প্রবেশ করলেও কঠোরভাবে নজরদারিতে রয়েছে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি।

২০১০ সাল থেকে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে বাগেরহাটের শিকদার বাড়িতে এশিয়ার বৃহত্তম দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। লিটন শিকদার নামে একজন শিল্পপতি ও সমাজসেবক এ পূজার আয়োজন করে আসছেন। গত বছরও সেখানে পূজা মণ্ডপে ছিল ৮০১টি প্রতিমা। ২০১৮ সালে ছিল ৭০১টি প্রতিমা। এর আগের বছর ছিল ৬৫১টি। যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রতিমার দুর্গাপূজার মণ্ডপ বলে দাবি করেন আয়োজক কমিটি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

সর্বশেষ ২০১০ সালে এখানে ধর্মগ্রন্থ রামায়ণ ও মহাভারতের চার যুগের দেবদেবীর নানা কাহিনী অবলম্বনে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। শোভা পেয়েছিল পুকুরের মাঝে শ্রী কৃষ্ণের অষ্টম সখীকে নিয়ে নৌকা বিলাশ। এছাড়া ৮০১টি প্রতিমার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল সৃষ্টি রহস্য।

শিকদার বাড়ির স্বর্গীয় ডা. দুলাল কৃষ্ণ শিকদার এবং তার স্ত্রী রমা শিকদারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ভগবানের প্রতি বিশ্বস্থতার এবং ভালোবাসার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম দুর্গা উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছি। তবে এবার করোনার কারণে সর্বাধিক সংখ্যক প্রতিমা তৈরি ও বৃহৎ পরিসরে দুর্গাপূজার আয়োজন না করলেও ইতোমধ্যে ডা. দুলাল কৃষ্ণ শিকদারের ছেলে শিল্পপতি লিটন শিকদার করোনকালীন সময়ে খানপুর ইউনিয়নের এক হাজার দুস্থ ও কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মাধ্যমে অসহায়দের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এবং আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য তিনি মানব সেবা করে যাচ্ছেন। যা একটি অন্যন্য দৃষ্টান্ত।

এ ব্যাপারে শিকদার বাড়ি দুর্গাপূজার আয়োজক শিল্পপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক লিটন শিকদার বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে আমরা সীমিত পরিসরে পূজা উদযাপন করছি। তবে আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হলে পূর্বের ন্যায় পূজার আয়োজন করা হবে।

শওকত আলী বাবু/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]