তিনদিনের বৃষ্টিতে ৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে বাগেরহাটে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০২:০৭ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

গত তিন দিনের ভারি বর্ষণে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভেসে গেছে হাজার হাজার মৎস্য ঘের ও পুকুর, যার ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

এখনও মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। পানিবন্দি অনেক পরিবারে গত তিনদিনে রান্না হয়নি। মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারগুলো।

পানি কমতে শুরু করলেও হাসি নেই মাছচাষিদের মুখে, ঘেরের মাছ বের হয়ে যাওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী গ্রামের মৎস্য চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের টানা বৃষ্টিতে মাছের ঘের তলিয়ে আমার ৭ লাখ টাকার মাছ বের হয়ে গেছে। শুধু আমার নয় এলাকার বিভিন্ন মানুষের ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে। অনেক মাছ চাষিই নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

jagonews24

শরণখোলা উপজেলার মহিবুন্নাহার, ছাহেরা বেগম, হাওয়া বেগম, শাহিনুর বেগমসহ অনেকেই জানান, বৃষ্টিতে তাদের থাকার ঘর, রান্না ঘর, গোয়াল ঘরসহ সব ডুবে ছিল। দুদিন দোকান থেকে চিড়া-মুড়ি ও রুটি কিনে খেতে হয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে তাদের কষ্ট আরও বাড়বে।

শরণখোলা উপজেলার রাজৈড় গ্রামের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী সোহেল ফরাজী জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ ছেড়েছিলেন তিনি। আর অল্প দিনের মধ্যে মাছ বিক্রি করার ইচ্ছা ছিল। বৃষ্টিতে ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় আগমী দিনগুলোতে কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমার উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। আমরা পানিবন্দি মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

তবে এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি করেছেন বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি মহিতুল ইসলাম সুমন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে বাগেরহাটের প্রায় ১৫ হাজার ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। চাষিদের ক্ষতি পোষাতে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

jagonews24

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. খালেদ কনক বলেন, অবিরাম বর্ষণে বাগেরহাটের ৯ হাজার ৭৬১টি মৎস্য ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে। এতে চাষিদের প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এই ক্ষতি পোষাতে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার চেষ্টা করার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, অতিবর্ষণের কারণে বাগেরহাট জেলায় বরাবরের মতো এবারও কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাটির সময় আবার সেই পানি নেমেও গেছে। এতে কিছু মাছের ঘেরও ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে কী পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা সেই তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছি।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার আমরা বিভিন্ন উপজেলায় পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে খাদ্যশস্য প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শওকত আলী বাবু/এফএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]