বাঁধ টেকসই হয় না কেন? কেন প্রতিবছরই ভেঙে যায়—প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর
সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে যে বাঁধ নির্মাণ করে তা টেকসই হয় না কেন, কেন প্রতিবছরই ভেঙে যায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি এ বিষয়ে গবেষণার জন্য নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (নগই) নির্দেশ দিয়েছেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়নে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নগই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও কার্যকর দেখতে চাই। নগইকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত গবেষণা সমীক্ষা চালাতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের হলরুমে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নগই’র মহাপরিচালক মো. আলিমুদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রোকন উদ-দৌলা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ও পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক প্রতিষ্ঠানটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গবেষণা ও সমীক্ষার মান উন্নয়ন করুন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি পায় এমন গবেষণাকর্ম আপনাদের করতে হবে। নগই যেসব ফিজিক্যাল ও ম্যাথমেটিক্যাল সমীক্ষা করে, সে ব্যাপারে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে।’
তিনি বলেন, ‘উপকূল রক্ষায় বিশ্বব্যাংক ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমীক্ষা চালাচ্ছে। নগই থাকতে কেন তারা এই কাজ করবে? এই কাজ নগই করলে তাতে আপনারাই লাভবান হতেন।’
টেকসই বাঁধ নির্মাণে জাপানের গৃহীত বিশেষ প্রযুক্তির ব্যাপারে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা পানি উন্নয়ন বোর্ড হতে এসব কাজের খোঁজ নিয়ে সেসব স্থানে যান। কাজে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলো বের করে ওই প্রকল্প পরিচালককে জানাবেন, আমাকেও জানাবেন। এই যে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করে, সেগুলো টেকসই হয় না কেন? কেন প্রতিবছরই বাঁধ ভেঙে যায়—এসব ব্যাপারে আপনাদের সমীক্ষা চালাতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী দেশের বড় বড় নদীতে প্রতিবছর চর পড়ে নাব্যতা হ্রাস ও নৌপথ আটকে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, একেক সময়ে একেক স্থানে কেন চর পড়ছে, এ বিষয়টি আপনারা গবেষণা করে বের করুন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি মাসুদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা প্রমুখ।
পরে তিনি ফরিদপুরের মধুখালীতে মধুমতি নদীর ভাঙন দেখতে যান এবং বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও তার বসতভিটা পরিদর্শন করেন।
বি কে সিকদার সজল/এসআর/এমএস