এক লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে মুক্তা (২৩) নামে এক গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মোস্তফা মিয়া মোস্তার (৩০) বিরুদ্ধে।
রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নির্যাতনের শিকার মুক্তা বেগমকে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর দলগ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে।
নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের দুই নং ওয়ার্ডের সোনারহাট এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে মোস্তফা মিয়া সঙ্গে পাঁচবছর আগে মোকছেদ আলীর মেয়ে মুক্তা বেগমের বিয়ে হয়। এ সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ছেলের মা ও বাবার মাধ্যমে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং মেয়ের ব্যবহারের জন্য দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার মোস্তফা মিয়ার কাছে দেন।
মোটামুটি বেশ ভালোই চলছিল তাদের সংসার। এরই মধ্যে তাদের কোলজুড়ে একটি কন্যা সন্তানেন জন্ম হয়। তবে ক্রমশই তাদের সম্পর্ক খারাপের দিকে যেতে থাকে। মুক্তাকে পুনরায় তার বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে চাপ সৃষ্টি করেন মোস্তফা। একপর্যায় দাবিকৃত টাকা না দিতে পারায় মুক্তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
সবশেষে গত রোববার সকালে মোস্তফা দাবিকৃত টাকার জন্য চাপ দেন মুক্তাকে। সে টাকা আনতে অস্বীকার করলে মোস্তফা লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করেন। একপর্যায়ে মুক্তা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। খবর পেয়ে নির্যাতিতার বাবা মোকছেদ আলী পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের শিকার মুক্তা বলেন, বিয়ের পর ভালোই চলছিল সংসার। হঠাৎ করেই আমার স্বামীর পরিবার এক লাখ টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে। ওই টাকা দিতে না পারায় আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়।
মুক্তার বাবা মোকছেদ আলী অভিযোগ করেন, আমার মেয়েকে তারা যৌতুকের কারণে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাত হোসেন জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. রবিউল হাসান/এসজে/এমকেএইচ