প্রি-পেইড মিটার বসাতে গিয়ে তোপের মুখে নেসকো কর্মীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নাটোরে প্রি-পেইড মিটার বসাতে গিয়ে গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়েছেন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) কর্মচারীরা। এসময় বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা তাদেরকে ধাওয়া দেয়। ফলে মিটার না বাসিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় নেসকোর কর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে দুপুরে নাটোর শহরে প্রি-পেইড মিটারের নামে ভোগান্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও পথসভা করেন গ্রাহকরা। নাটোর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুলের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন, জাপা নেতা আশরাফুজ্জামান মুন্না, জেলা সিপিবির আহ্বায়ক দেবাশীষ রায়, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি আসাদুজ্জামান, যুগ্ম-আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্টু প্রমুখ।

এদিকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে নেসকো কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন গ্রাহকরা। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মসজিদে মসজিদে জমায়েত ও শনিবার নেসকোর কার্যালয় ঘেরাও করবেন গ্রাহকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাটোর পৌর এলাকায় নেসকোর প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন সকালে নেসকো কর্মচারীরা শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও লালবাজার এলাকার বাসাবাড়িতে মিটার স্থাপনের জন্য যান। তাদের দেখে গ্রাহকরা জড়ো হয়ে ধাওয়া দেন। পরে তারা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও পথসভা করেন।

পথসভায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই নাটোরে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করতে দেব না। জনগণের স্বার্থে আমরা এ আন্দোলন করছি। আন্দোলনে ব্যবসায়ীদের অংশ নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। নেসকো কার্যালয় ঘেরাওয়ে কাজ না হলে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

নেসকো নাটোর কার্যালয়ের তথ্যমতে, নাটোর পৌর এলাকায় ২৮ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০০ মিটার বসানো হয়েছে। তবে নতুন মিটার বসানো গ্রাহকরা বেশি চার্জ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।

শহরের প্রবাল সুপার মার্কেটের নাটোর ইলেকট্রনিকের মালিক আব্দুল মতিন বলেন, ‘মিটার স্থাপনের দিন ২০০ টাকা রিচার্জ করা ছিল। কয়েক দিনে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তাতে ৬০ টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। পুরাতন মিটারে এর চেয়ে অর্ধেক চার্জ করা হতো।’

ফারদিন রাব্বি অটোর সত্বাধিকারী কায়সার রিজভিও একই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভৌতিক বিলের দোহাই দিয়ে প্রি-পেইড মিটারের যৌক্তিকতা দেখাচ্ছে নেসকো। অথচ স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ বিল চার্জ করা হচ্ছে এখানেও।’

নেসকোর নাটোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল আজীম ইমান বলেন, ‘প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত সরকারের। আমারা বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ মাত্র। নতুন পদ্ধতি হওয়ায় গ্রাহকদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবে গ্রাহকরা যাতে আগ্রহী হয় সেজন্য আমরা তাদের উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করছি। কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে কিছু জানা নেই।’

এএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।