একুশের প্রহরে ‘উন্মুক্ত পাঠাগার’
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার প্রবেশের প্রধান ফটকের পাশেই দেয়াল ঘেঁষে ফেলা হতো বাজারের ময়লা-আবর্জনা। স্থানটি ছিল নোংরা ও দুর্গন্ধময়।
পাশ দিয়ে চলার সময় নাকে রুমাল দিয়ে চলতে হতো পথচারীদের। সম্প্রতি সেই স্থান পরিণত হয়েছে ফুলের বাগানে। আবর্জনা পরিষ্কার করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের রূপকার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনদীপ ঘরাই।

একই ঘটনা দেখা যায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পালং হাউস বাসভবনের প্রবেশের প্রধান ফটকের পাশে। দেয়াল ঘেঁষে ফেলা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন তিনি। অমর একুশকে সম্মান জানাতে ওই দেয়ালে গড়ে তোলা হয়েছে ‘উন্মুক্ত পাঠাগার’।
একদম বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই শিক্ষার্থীসহ সব ধরনের মানুষকে বইমুখী করা এবং বই পড়ার আনন্দকে সঙ্গী করে তাদেরকে আলোকিত করা।
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় একুশের প্রহরে ‘উন্মুক্ত পাঠাগার’ স্থাপনের এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাঠাগারেরও প্রতিষ্ঠাতা ইউএনও মনদীপ ঘরাই।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান। এসময় মোটিভেশনাল স্পিকার সোলাইমান সুখন উপস্থিত ছিলেন।
পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ইউএনও মনদীপ ঘরাই বলেন, একুশকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং একুশের ভাবধারাকে সমুন্নত রাখতে এই পাঠাগার গড়ে তোলা হয়েছে। যে পাঠাগারে ২১টি বই শোভা পাবে।

তিনি আরও বলেন, নামের সঙ্গে মিল রেখে এবং প্রতি ২১ দিন পর পর এই বইগুলো পরিবর্তন করা হবে। যদি না হয় তাহলে আমি নিজেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে, বেতনের টাকায় এই বইগুলো করার ব্যবস্থা করব। এই উদ্যোগ গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্যই হলো পাঠককে বাংলা ভাষার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা। বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার বই এখানে শোভা পাবে না।
ছগির হোসেন/এসএমএম/জিকেএস