৭৫ বয়সী বৃদ্ধার মানবেতর দিনযাপন : পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৬:০৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

স্বামী বলাই মিয়া মারা গেছেন ৪৫ বছর আগে। জীবদ্দশায় মাত্র দেড় শতক জমিতে রেখে যান একটি কুঁড়েঘর। আর সেই কুঁড়েঘরে খেয়ে না খেয়ে বসবাস করেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুরের দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বলাই মিয়ার স্ত্রী সামসুন্নেছা (৭৫)। তার থাকার ঘরটি যেমন বসবাসের অনুপযুক্ত, তেমনি নেই পানির ব্যবস্থাও। এভাবে এই ছোট্ট কুঁড়েঘরে শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছিলেন এই বৃদ্ধা।

বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকনের নজরে আসে। ওই বৃদ্ধার যাবতীয় খরচাদির দায়ভার গ্রহণ করেন। পানির অভাব দূর করতে নিজের অর্থায়নে ৪৫ হাজার টাকা খরচ করে একটি সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে দেন বৃদ্ধার উঠানে। ওই ওঠানের জমি বৃদ্ধার নয় দাবি করে পাশের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে বিষয়টি সমাধান করে দেন তিনি।

কথা হয় দাউদপুর ইউনিয়নের দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা সামসুন্নেছার প্রতিবেশী গৃহিণী রেহানার সঙ্গে। তিনি জানান, সামসুন্নেছার বড় মেয়ে আজিদা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তার বিয়ে হয় পাশের গ্রামে আগলায়। কিন্তু কোনো সন্তান হয়নি তার। আবার আজিদার স্বামী নুরু মিয়াও মারা যান। আজিদার কোনো সন্তান না থাকায় স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় মেলেনি। অন্য মেয়েদের বিয়ে দিলেও দরিদ্রতার কারণে মায়ের খোঁজ রাখতে পারেন না তারা। এতে সামসুন্নেছা আরও অসহায় হয়ে পড়েন। সামসুন্নেছা এরপর এর-ওর কাছে হাত পাততে শুরু করেন। কুঁড়েঘরটিও ভেঙে যায়। টিনগুলো মরিচা পড়ে যায়।

দুয়ারার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, গ্রামের সবাই যখন যার যার টিউবওয়েলের পানি দিয়ে গোসল সারেন, তখন গোসলের জন্য ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে আজিদা এক কিলোমিটার হেঁটে নদীতে যান। পরে পানির ব্যবস্থা করে দেন একই গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকন।

বৃদ্ধা সামসুন্নেছা বলেন, যেই আমার পানির ব্যবস্থা করেছে, আল্লায় তার আত্মা ঠান্ডা করব। তিনি বলেন, ‘সরকার আমারে বয়স্কভাতা হিসেবে যা দেয় তা দিয়ে জীবন চলে না। হুনতেছি কত মাইনসেরে সরকারি ঘর দিছে, আমারে কি চোখে পড়ে না?’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দুয়ারা গ্রামের সামসুন্নেছা ছাড়াও আশপাশের দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী লোকদের পাশে আমরা সাধ্যমতো দাঁড়িয়েছি। সম্প্রতি করোনা মহামারির লকডাউন পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের তিন শতাধিক মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর মাস্টার বলেন, ছাত্রলীগ নেতা খোকন ওই বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছে এমন খবরে আমরা খুব খুশি হয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও ওই বৃদ্ধার জন্য আরও সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করব আমরা।

মীর আব্দুল আলীম/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]