ওসমানীনগরে ট্রাকচালক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১

সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একমাত্র আসামি শুকুর আলী ওরফে শুভ ইসলামকে (২১)।

দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর বাজার থেকে গ্রেফতারের পর শুভ ইসলাম শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুভ গাইবান্ধা জেলার পলাশ বাড়ি থানার জাইতর বালা গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট জেলা গোয়েন্দা শাখা ও ওসমানীনগর থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় ওসমানপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে আসামি শুভকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় সিলেটে। শুক্রবার দুপুরে তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কান্তি দাসের আদালতে তাকে নেয়া হলে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শুভ জানান, মাস দুয়েক আগে তাকে হেলপার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান। কথা ছিল প্রতি ট্রিপে এক হাজার টাকা করে মজুরি দেয়ার। কিন্তু ট্রিপে গেলেও চালক মুজিবুর রহমান তাকে কথামতো মজুরি দেননি। টাকা চাইলে উল্টো তাকে গালাগাল করতেন। এসব কারণে গলায় ছুরিকাঘাত করে ও মাথায় লোহা দিয়ে আঘাত করে মুজিবুরকে হত্যা করে পালিয়ে যান শুভ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল সকালে সিলেটের ওসমানীনগর থানার গোয়ালাবাজারে পাথর বোঝাই ট্রাকে চালকের আসনের পেছনের কেবিনে অজ্ঞাত একজনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে কুমিল্লার মুরাদনগর থানার আলীরচর গ্রামের জৈনক স্বপ্ন মিয়া (২৭) মৃতদেহটি তার বড়ভাই মুজিবুর রহমানের (৪২)বলে শনাক্ত করেন। পরদিন ২৫ মার্চ স্বপ্ন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার ব্যাপারে অবহিত হয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ আসামি গ্রেফতারের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মীয়া মোহাম্মদ আশীস বিন হাছানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সদর দফতরের তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এক পর্যায়ে ঘটনার একমাত্র আসামি ট্রাকের হেলপার শুভর অবস্থান শনাক্ত করে রংপুরসহ দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করার সময় শুভর কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও অন্য আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা গেছে, ঘটনার দুই মাস আগে থেকে মুজিবুর রহমানের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক হেলপার হিসেবে নিয়োগ পান আসামি শুভ। চুক্তি মোতাবেক নিয়মিত টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষোভে গত ২৩ মার্চ সিলেটের দুপাগুল এলাকা থেকে পাথর বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পথে রাত একটার দিকে গোয়ালাবাজারে চালক মুজিবুর রহমান গাড়ির কেবিনে ঘুমিয়ে গেলে হেলপার শুভ ছুরি দিয়ে গলায় এবং হুইল রেঞ্জ দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

শুভকে গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশনা ও ক্লোজ মনিটরিংয়ে ওসমানীনগরে একজন ট্রাকচালকের ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অপরাধীরা অপরাধ করে যে কৌশলেই আত্মগোপন করুক না কেন আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বদ্ধ পরিকর।

ছামির মাহমুদ/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]