১৪ বছর পর ফিরে এসে জবানবন্দি দিলেন ‘অপহৃত’ রুবেল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:০২ এএম, ২২ মে ২০২১

১৪ বছর চার মাস পর স্বজনদের কাছে ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জের আমিন ওরফে রুবেল নামে এক তরুণ। নিখোঁজ হওয়ার পর দেড় মাস তার মা ১৯ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছিলেন। ফিরে এসে বাড়ি থেকে বের হওয়া, এতদিনের অবস্থান এবং তাকে বাড়ি ফিরতে মায়ের বাধা দেয়ার ঘটনাগুলো আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন এই তরুণ।

শুক্রবার (২১ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মহসিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে রুবেল নিজ জিম্মায় বাড়ি ফিরে যান।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আদালত এই মামলার মূল নথিপত্রে রুবেলের জবানবন্দির রেকর্ড সংযুক্ত করার আদেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে আদালত পরবর্তীতে নির্দেশনা দেবেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কুঁড়েরপাড় এলাকার জানু মিয়ার ৭ বছর বয়সী সন্তান রুবেল বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার দেড় মাস পর (ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন রুবেলের মা রহিমা বেগম।

পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ পর্যায়ক্রমে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলা নিষ্পত্তি করে আসামিদের অব্যাহতি দেন।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর রুবেল স্বেচ্ছায় বাড়িতে ফিরলে তার বড় ভাইসহ ভুক্তভোগীরা তাকে বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের রুবেল জানান, কেউ তাকে অপহরণ করেনি।

তার দাবি, শৈশবে ভারি কাজের চাপ ও মায়ের অত্যাচার সইতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তার মা কী কারণে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে এতগুলো মানুষকে হয়রানি করেছেন সে ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

মো. শাহাদাত হোসেন/এসএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।