বেনাপোলে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়েছে রাজস্ব আদায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বেনাপোল
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ০২ জুন ২০২১

যশোরের বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৮৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে তিন হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। যা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত দেড় বছর করোনার কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। এরপরও ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৪৩১.৭৩ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয় ৩৭৫৬.৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৮৫.৪৮ কোটি টাকা বেশি।

শিল্পকলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শতকরা ৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি হয় বেনাপোল দিয়ে। আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, মেশিনারিজ, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মেশিনারি যন্ত্রাংশ, টায়ার, মোটরগাড়ি, বাস ও ট্রাকের চেসিস, ফল, পেঁয়াজ, মাছ, চাল, সুতা ও বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। আর রফতানি পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, সিরামিক, মেলামাইন, তৈরি পোশাক উল্লেখযোগ্য।

কাস্টমস সূত্র মতে, গত ৫ বছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন পণ্য। বিপরীতে রফতানি হয়েছে ১৮ লাখ ৭২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পণ্য। ভারতের সঙ্গে বেনাপোল দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে। রফতানি হয় আট হাজার কোটি টাকার পণ্য।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, করোনার কারণে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুপাতে বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হতো।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, দেশে স্থলপথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ হয় বেনাপোল দিয়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় অনেকে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, বন্দরের জায়গা অধিগ্রহণের পাশাপাশি বন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি আধুনিক পণ্যাগার। সিসি ক্যামেরার কাজও চলছে। বন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাব দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। চলতি অর্থ বছরে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কহারের পণ্য কম এসেছে। আমরা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে। এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপকে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়বে।

জামাল হোসেন/এএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।