সেতুর টোল আদায়ের আড়াই কোটি টাকা উধাও, একে অপরকে দোষারোপ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ৩০ জুন ২০২১

কাজের বিপরীতে জামানতের ভুয়া পে-অর্ডার জমা দিয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সেতুর টোল আদায়ের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

কাজের মেয়াদ শেষে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ওই পে-অর্ডার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় ক্যাশ করতে গেলে চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সড়ক জনপথ বিভাগ কেউই এ ঘটনার দায় নিতে চাইছে না। তারা এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে।

খোঁজ জানা গেছে, ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত মীর মশাররফ হোসেন (সৈয়দ মাসউদ রুমি) সেতুর টোল আদায়ের দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কাজ পান স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানায়, দরপত্রের অনুযায়ী প্রতিবছর তিন মাস অন্তর অন্তর চার কিস্তিতে টোলের টাকা পরিশোধ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এক্ষেত্রে দুই কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ সড়ক ও জনপথ বিভাগে জামানত হিসাবে রাখা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার প্রায় আড়াই কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুষ্টিয়া অফিসে জমা দেয়।

যেহেতু দুই কিস্তির টাকার সমপরিমাণ টাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আগেই জামানত হিসাবে জমা রেখেছে, সে কারণে মেয়াদ শেষের টোলের শেষ দুটি কিস্তির টাকা জমা দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সোমবার (২৮ জুন) সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ ওই পে-অর্ডার দুটো সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখায় নিয়ে ক্যাশ করতে গিয়ে জানতে পারেন এগুলো জাল। এ ঘটনায় তারা এখন একে অপরকে দায়ি করে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউই এখন বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনার দায় নিতে চাইছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হালিমুজ্জামান বলেন, ‘কাজের অর্ডার পাওয়ার পর জামানতের জন্য দুটিসহ মোট ছয়টি পে-অর্ডার সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমা দিয়েছিলাম। নিয়মানুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে সেটা যাচাই-বাছাই করার কথা। পরে সড়ক জনপথ বিভাগ জামানতের দুটি পে-অর্ডার ছাড়া বাকি চারটি পে-অর্ডার ভাঙিয়ে ক্যাশ করেও নেয়। এখন তিন বছরের মাথায় এসে কি করে সেই পে-অর্ডার জাল হয়ে গেল সেটা কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকছে না।’

তিনি দাবি করেন, ‘সাউথইস্ট ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজার জাকির হোসেন কারসাজি করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার পে-অর্ডার দুটি ব্যাংকে ক্যাশ করতে গিয়ে ধরা পড়ে এ দুটি আসল নয় জাল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারাও কোনোভাবেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। সে কারণে তাদেরও এই মামলায় পক্ষভুক্ত করা হবে।’

এদিকে, যোগাযোগ করা হলে সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার বর্তমান ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি। আমি এখানে সব মাত্র হলো যোগ দিয়েছি। যে সময়ের ঘটনা তখন জাকির হোসেন নামে একজন এখানে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

উল্লেখ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগেও একই সেতুর টোল আদায়ের কাজে জালিয়াতির অভিযোগ আছে।

এছাড়া এরআগে কুষ্টিয়া সুগার মিলে একটি ঠিকাদারি কাজের একইভাবে ভুয়া পে-অর্ডার দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সে সময় মামলাও হয়েছে।

আল-মামুন সাগর/এসজে/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।