কাঁচপুর থেকে সরলেন শ্রমিকরা, দুই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের শ্রমিকরা।
এদিকে সড়ক অবরোধে মহাসড়ক দুটিতে প্রায় ৯ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা গ্রুপের সামনে ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে প্রায় দুই মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। দিনব্যাপী অবরোধের পর আগামী ১৩ জুলাই পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তারা তা না মানলে পুলিশের বাধায় শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হন। প্রায় ৯ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫টা থেকে ফের যান চলাচল শুরু হয়।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, ওপেক্স অ্যান্ড সিনহা টেক্সটাইল গ্রুপে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক কর্মরত। কিন্তু গত ৩ জুন শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ ও বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য পাওনার দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ ৩০ তারিখও দেয়নি। তিন মাসের বেতন, বোনাস, শ্রমিকদের গত আড়াই বছরের সার্ভিসের টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়া, বেআইনিভাবে লে-অব দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গত এক মাস আগে গার্মেন্টটি বন্ধ করে দিলে শ্রমিকরা তাদের পাওনা চাইলে গত ২৭ জুন বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধের কথা থাকলেও তারা পরপর তিনটি তারিখ দিয়েও তা পরিশোধ করেনি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা কথা বলছে না। বিভিন্ন অজুহাতে তারা কালক্ষেপণ করছেন।
শ্রমিক মিনা আক্তার বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে বেতন নাই। এই লকডাউনে কেমনে চলি কেমনে খাই আমাদেরটা আমরাই জানি। বাড়িভাড়া জমে আছে গত তিন মাসের। এমন অবস্থায় রাস্তায় নামা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।’
শ্রমিক রমিজ মিয়া বলেন, ‘বেতন নাই বোনাস নাই ও অন্যান্য পাওনা কিছুই পরিশোধ করে নাই। কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দিছে। বাড়িভাড়া দিতে না পারায় বাড়ির মালিকরা ঘর ছেড়ে দিতে চাপ দিচ্ছে। কই যাব আমরা?’
শ্রমিক রীতা বেগম বলেন, ‘একাধিকবার সময় নিয়েও তারা বেতন পরিশোধ করে নাই। আন্দোলনে নামলে শুধু আশ্বাস দেয় তারপর আর খোঁজ পাওয়া যায় না।’
এদিকে সকাল থেকে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। ফলে দুই সড়কজুড়েই শত শত যানবাহন আটকে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পণ্যবাহী পরিবহন, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স কোনো ধরনের পরিবহন চলাচল করতে পারছে না। সোনারগাঁ, কাঁচপুর, চিটাগাং রোড, শিমরাইল মোড় ও সাইনবোর্ডসহ প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বরোড থেকে কাঁচপুর ব্রিজের নিচ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়ে চালক ও সাধারণ মানুষ।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ এর ইন্সপেক্টর শেখ বশির আহমেদ জানান, গত মাস থেকে শ্রমিকরা বেতন বোনাসের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আজও সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। দিনব্যাপী সড়ক অবরোধের পর বিকেলে মালিকপক্ষ ১৩ জুলাইয়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা তা মেনে না নিয়ে অবরোধ অব্যাহত রাখে। পরে পুলিশের বাধার মুখে তারা বাধ্য হয় অবরোধ তুলে নিতে। বিকেল ৫টার পর থেকে এখন যান চলাচল সচল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এস কে শাওন/এমআরএম/জিকেএস