রাজধানীতে ফিরছে মানুষ, গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১ | আপডেট: ০৫:০৯ পিএম, ২২ জুলাই ২০২১

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। নওগাঁ বাস স্ট্যান্ডগুলোতে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়। অগ্রিম বিক্রি হওয়ায় বাড়তি টাকা দিয়েও টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেকে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় যাত্রীদের ভিড়। টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে ছুটছেন আরেক কাউন্টারে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি টাকা দিয়ে কাটতে হচ্ছে টিকিট। নওগাঁ ট্রাভেলস এক হাজার টাকা, একতা ৯০০ টাকা, শাহ ফতেহ আলী এক হাজার টাকা ও শ্যামলী কাউন্টারে ৯০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

শহরের মাস্টারপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, ‘ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। রোববার থেকে অফিস শুরু হবে। শুক্র ও শনি বার ছুটির দিন। এছাড়া শুক্রবার থেকে আবারও লকডাউন শুরু। লকডাউনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে হানিফ কাউন্টার থেকে দুপুর ১২টার বাসে এক হাজার টাকায় টিকিট কেটে যেতে হচ্ছে।’

হানিফ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার কাঞ্চন মিয়া বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা গন্তব্যের উদ্দেশে বাস ছাড়ছি। যাত্রীদের কাছ থেকে ৮০০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) এক হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া। আমাদের বাস ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে না।’

শাহ ফতেহ আলী কাউন্টারের যাত্রী সদর উপজেলার দুবলহাটির বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘পোশাক কারখানায় চাকরি করি। গত ১৯ জুলাই ঈদের ছুটি পেয়ে বাড়ি আসছি। ২৭ জুলাই থেকে আবারও কারখানা চালু হওয়ার কথা। লকডাউনে যদি মালিক কারখানা বন্ধ না করেন এজন্য চলে যাচ্ছি। দুপুর ১ টার বাসে এক হাজার টাকায় টিকিট কেটেছি।’

jagonews24

শাহ ফতেহ আলী কাউন্টার মাষ্টার আজাদ বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে এবার ১০-১২ টা গাড়ি চলবে। যেসব গাড়ি ঢাকায় যাবে যত রাতই হোক না কেন তারা নওগাঁয় ফিরে আসবে। পর্যাপ্ত আসন আছে; তবে যাত্রী সংকট। অনেক যাত্রী টিকিট ফেরত দিয়েছেন।’

সদর উপজেলার নগর কুসুম্বি গ্রামের পোশাক কারখানার শ্রমিক রশিদা বেগম বলেন, ‘শ্যামলী কাউন্টার থেকে একটি টিকিট কেটেছি। টিকিটে ৭০০ টাকা লিখা থাকলেও আমার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৮০০ টাকা। কারণ জানতে চাইলে কাউন্টার থেকে বলে কোনো সমস্যা নাই।’

শ্যামলী ১ নম্বর বাস কাউন্টারের ম্যানেজার শীবেন বলেন, ‘ঈদে ৫-৬টা বাস চলছে। আমরা আশা করছিলাম টিকিট বিক্রি হবে। কিন্তু যাত্রীসংখ্যা কম থাকায় আসন ফাঁকা রেখেই ঢাকার উদ্দেশে যেতে হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে না। অনলাইনে প্রতি আসনে ৬০০ টাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তবে কেউ যদি অনলাইনে টিকিট কেটে পরে যাত্রীদের কাছে বেশি টাকায় বিক্রি করে সেটা অন্য ব্যাপার।’

নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি এহসান রেজা (রেনজা) বলেন, ‘ঢাকামুখী যাত্রীদের খুব ভিড়। যাত্রীদের কথা বিবেচেনা করে অনেক বাসে দুই সিটে দুইজন করে যাত্রী নিয়ে যেতে হচ্ছে। চালক ও হেলপার থেকে শুরু করে বাসের সাথে জড়িতদের বেতন সব বিচেনা করে একটু ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৬ জুলাইয়ে যদি লকডাউন শিথিল করা হয় তবে নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। অনেক যাত্রীকে টিকিট দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাস ঢাকায় যাবে। তারপর আর কোন বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবেনা।’

আব্বাস আলী/আরএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]