অকারণে বাইরে বের হওয়ার শাস্তি এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:২৪ এএম, ২৪ জুলাই ২০২১

কঠোর লকডাউনেও দুই বন্ধু বাইরে বের হয়েছিলেন টিকটক ভিডিও বানাতে। গন্তব্য দেওভোগ থেকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। পথে নারায়ণগঞ্জের শহরের চাষাঢ়ায় বাধ সাধলেন আনসার ও বিজিবি সদস্যরা। এসময় তারা মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করাতে চাইলেও পরে বেরিয়ে যায় আসল তথ্য। ফলে শাস্তিস্বরূপ ১৫ মিনিট এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় উভয়কে।

টিকটক ভিডিও বানাতে এসে এমন শাস্তি পেতে হয়েছে তাদের। তাদের মতো যারা অনেকে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসেছেন তাদেরকেও এ ধরনের শাস্তি পেতে হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া শান্তনা মার্কেটের সামনে এভাবেই লকডাউন অমান্যকারীদের এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন বিজিবি ও আনসার সদস্যরা।

এদিকে কঠোর লকডাউনে বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসায় জরিমানার বদলে অভিনব এই শাস্তি প্রদান করায় অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিতদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে মাসুদ (১৮) ও আল আমিন (১৮) নামের দুই তরুণ হেঁটে পার হচ্ছিলেন চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর। পথে আনসার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন তারা। তারা একবার বলেন কাজে যাবেন আবার বলেন ঈদগাহে যাবেন। বাধ্য হয়ে পাঠানো হয় বিজিবির কাছে। বিজিবি সদস্যদের কাছে সব খুলে বলেন তারা। তারা টিকটক ভিডিও বানাতেই বাসা হতে বের হয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।

তরুণ আল আমিন জানান, শুক্রবার ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না তার। বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলেন। তাই বন্ধু মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে চাচার বাসায় যাচ্ছিলেন। ঈদের ছুটিতে বেড়িয়ে আসার জন্যে লকডাউনের মাঝে বের হয়েছেন তারা।

উভয়ের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যের পরে শাস্তি দেয়া হয় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ। ১৫ মিনিট পর ছেড়ে দেয়া হয় উভয়কেই। তবে ঈদগাহের দিকে নয়, তাদের বাড়ি দেওভোগের দিকেই ফিরে যেতে হয়।

শুধু এই দুজন নয়, পুরো বিকেলজুড়ে অন্তত ২০ জনকে এভাবেই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। বিনা কারণে ঘর থেকে বেরিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকেই। শাস্তিস্বরূপ দাঁড়িয়ে থেকেছেন শান্তনা মার্কেটের নিচে।

বিজিবির দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তবে বেশিরভাগই অসুখ আর ওষুধ আনার কথা বলছেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেই তারা এই অজুহাত দেয়া শুরু করেন। তবে আমরাও প্রেসক্রিপশন না দেখে তাদের ছাড় দিচ্ছি না। পুরো লকডাউনজুড়ে এভাবেই নির্দেশনা পালনে বাধ্য করার জন্য আমরা কাজ করে যাব।

মো. শাহাদাত হোসেন/এসআর

 

 

 

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]