কোলা হাটের খাস আদায়ের টাকা হরিলুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট কোলা ইউনিয়নের কোলা হাট। গত কোরবানির ঈদে চারটি হাট বসে। তবে আদায়কৃত লাখ লাখ টাকার খাস সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সংশিষ্টদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোলা হাটে পশুর পাশাপাশি সবজি, মাছ, সাইকেল ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনাবেচা হয়। ২০১৯ সালে ইজারাদার ফেরদৌস হোসেন প্রায় ৬৮ লাখ টাকায় হাটটি টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নিয়েছিলেন। গড়ে প্রতি সপ্তাহে দেড় লাখ টাকা আয় হতো এই হাট থেকে। হাটের মেয়াদ শেষ না হতেই ২০১৯ সালের শেষ দিকে ইজারাদার ফেরদৌস হোসেন হাটটি সরকারিভাবে আবার নতুন করে ইজারা না দেয়ার জন্য উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন।

রিট করার ফলে হাটটি থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থানীয় তহশিল অফিসের (ভূমি) তহশিলদার ও হাটের রিটকারী ফেরদৌস হোসেনের সহযোগিতায় খাস আদায় শুরু করেন সদ্য বদলিকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা আবু তাহির। প্রায় দেড় বছর হাট থেকে খাস আদায় হচ্ছে।

গত এপ্রিলে বদলগাছীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন আলপনা ইয়াসমিন। এরপর তিনি স্থানীয় তহশিলদারকে বাদ দিয়ে অফিসের প্রধান অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে কোলা হাটের খাস আদায় শুরু করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪২৭ সনে (২০২০ সাল) কোলা হাটে খাস আদায় হয়েছে ২১ লাখ ২ হাজার ৯৭৯ টাকা। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত হাটের খাস আদায় হয়েছে ছয় লাখ ৪২ হাজার টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজাউল, রহমত, নওশের, সুমন ও আতোয়ারসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গত ৯, ১৩, ১৬ ও ২০ জুলাই এখানে হাট বসে। চারটি হাটে প্রায় প্রতি বছরের মতো এবারো ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খাস আদায় হয়েছে। ঈদ মৌসুম ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে (শুক্র ও মঙ্গলবার) দুই হাটে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খাস আদায় হয়।

হাটের রিটকারী ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘বহু আগে থেকে হাট ইজাদারের ব্যবসা করি। কোলা হাটে শতভাগ খাস আদায়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আমার লোকজন নিয়ে হাটের খাস আদায় করে তার মনোনীত লোককে বুঝিয়ে দিয়েছি। আমাদের দিনে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে দেয়া হতো।’

কোলা, আধাইপুর ও বদলগাছী ইউনিয়নের ভূমি অফিসের তহশিলদার রঞ্জিত কুমার বলেন, ‘আগের ইউএনও স্যারের সময় কোলা হাটের খাস আদায় করতাম। কিন্তু পহেলা বৈশাখ থেকে আমাকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রধান অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে এখন খাস আদায় হচ্ছে।’

ইউনিয়ন হাট কমিটির সভাপতি ও কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, ‘বাংলা ১৪২৬ সনে ইউনিয়নের জন্য ইউএনও অফিস থেকে হাটের ১৭ লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। ১৪২৭ সনে সেখানে মাত্র দুই লাখ টাকা পাওয়া যায়। এ বছর এখনো কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। গত কোরবানি উপলক্ষে কোলা হাটে চারটি পশুর হাট বসেছে।’

এ ব্যাপারে অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘হাটের খাস আদায়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে কত জমা হবে তা ঠিক করবেন ইউএনও স্যার। তিনি যা বলবেন সেটাই জমা হবে।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, যে পরিমাণ খাস আদায় হয়েছে সেই অর্থই সরকারের কোষাগারে জমা করা হয়েছে। কী পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে এই মুহূর্তে মনে নেই। তবে অফিস সহকারীর কাছে এর হিসাব রয়েছে।

ইউএনও অফিসে গিয়ে অফিস সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, খাস আদায়ের অর্থ নয়ছয় করার কোনো প্রশ্নই আসে না।

আব্বাস আলী/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]