পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস, হুমকির মুখে মসজিদসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০২১

পদ্মার তীব্র স্রোতে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ। ফলে বাঁধ সংলগ্ন স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ না হতেই গত দুই সপ্তাহে বাঁধের কয়েকটি স্থানের প্রায় আড়াইশ মিটার অংশের সিসি ব্লক ধসে পড়েছে।

এদিকে শনিবার (৭ আগস্ট) সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। তাৎক্ষণিক তিনি ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

balu3

জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ৭৬ কোটি টাকা বায়ে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের ডান তীর প্রতিরক্ষার (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আড়াই কিলোমিটার অংশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি প্যাকেজে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু তীর প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক বসানোর কয়েক মাস না যেতেই দফায় দফায় নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে এসব ব্লক। ক্ষতি হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা ও বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা। গত ২৭ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত গোদার বাজারের এনজিএল ইট ভাটার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের পাঁচ থেকে সাতটি স্থানের ব্লক ধসে গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এলাকায় রয়েছে স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

আল আমিন মোস্তফা নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতায় বার বার তীর রক্ষা বাঁধে ধস হচ্ছে। এখন তার ইটভাটা ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙলে বাঁধ থাকবে না। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।

balu3

চরধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কহিনুর আক্তার বলেন, স্কুলটি এখন ভাঙনের মুখে। ভাঙন রোধেও কাজও হচ্ছে ধীর গতিতে। বাচ্চাদের এ প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় নিচ থেকে ডাম্পিং করা মালামাল সরে যাওয়ায় পিচিং করা ব্লক ধসে যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ভাল ভাবে জরিপ করে ভাঙন রোধে আবার নতুন করে কাজ শুরু হবে।

রুবেলুর রহমান/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।