হত্যার ২০ মাস পর ‘মৃত’ ব্যক্তি জীবিত উদ্ধার!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬:১৮ পিএম, ২১ আগস্ট ২০২১

যৌতুক দিতে না পারায় স্ত্রীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন স্বামী। এ ঘটনায় স্ত্রী আদালতে মামলা করলে অত্মগোপন করেন তিনি। এরপর স্বামীকে অপহরণের পর হত্যার নাটক সাজিয়ে স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির সাতজনের নামে মামলা করা হয়। অবশেষে মামলার দীর্ঘ ২০ মাস পর কথিত মৃত স্বামীকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শনিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ডোমেরহাট ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে মোছা. জান্নাতি বেগমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নিজপাড়া গ্রামের ওয়াসিম জাহান তৌহিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জান্নাতি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরে স্থানীয়দের চাপে তাদের বিয়ে হয়। এরপরই যৌতুক দাবি করেন ওয়াসিম। এ নিয়ে অস্বীকৃতি জানালে জান্নাতিকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি।

এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জান্নাতি বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন। এরপরই আত্মগোপনে চলে যান ওয়াসিম। ওয়াসিমকে অপহরণের পর হত্যা ও গুমের অভিযোগে তুলেন তার বড় ভাই মানজুমুল হুদা। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ আদালতে ওয়াসিমের স্ত্রী জান্নাতি ও তার পরিবারের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ বলেন, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে হস্তান্তর করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৯ আগস্ট পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি দল গাজীপুরের মোগরখাল এলাকার টিএনজেএড নামের একটি পোশাক কারখানা থেকে ওয়াসিমকে জীবিত উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, বড় ভাইয়ের করা মামলায় কথিত ভিকটিম ওয়াসিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী জান্নাতি বেগমের মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। তাই আদালত তাকে স্ত্রীর করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জাহিদ খন্দকার/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।