ভাঙনের মুখে বিদ্যালয়, সন্তানদের পাঠাতে ভয় অভিভাবকদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর চর সিলিমপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙন ঝুঁকিতে ওই এলাকার অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আতংকে বিদ্যালয়ে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ বড় বড় ফাটল তৈরি হয়ে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে প্রায় ৫০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক দেবে গেছে। এতে ওই এলাকার একটি স্কুল, একটি মসজিদ ও অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন আতংকে স্কুলটির মূল ভবন বাদ দিয়ে টিনশেড ঘরে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মূল ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

jagonews24

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের কাজ ভালো না হওয়ায় দফায় দফায় ভাঙছে। রাতে ভয়ে তাদের ঘুম হয়নি। সারারাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ভোরে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে বাঁধের ব্লক নদীতে চলে গেছে এবং বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। যেভাবে ভাঙছে তাতে ঘরবাড়ি হারানোর ভয়ে আছেন তারা। তাদের একমাত্র স্কুলটিও এখন ভাঙনের মুখে। ভাঙনরোধে যে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, তার স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনায় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর খুললেও এখন নদী ভাঙন আতংকে সবাই চিন্তিত। অভিভাবকরা ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। স্কুলের মূল ভবনের পাশেই এখন ভাঙন। কখন কী হয় বলা মুশকিল। যে কারণে মূল ভবন বাদ দিয়ে টিনশেডে কার্যক্রম চলছে।

jagonews24

আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষা করা না গেলে এখানকার বাচ্চারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, পদ্মার পানি কমার কারণে ভোরে হঠাৎ করে চর সিলিমপুর স্কুলের আশপাশের ৩০ মিটার অংশের ব্লক ধসে গেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়। কাজ চলমান আছে। পরবর্তীতে পুরো ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে বালু ভর্তি বস্তা ডাম্পিং ও ব্লক বসিয়ে মেরামত করে দেওয়া হবে।

রুবেলুর রহমান/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]