যুবককে ৬ দিন ঘরে আটকে নির্যাতন চালালেন ইউপি সদস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১

রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে রাসেল শেখ (২০) নামের এক যুবককে ঘরে আটকে টানা ৬ দিন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওয়ার্ড সদস্য উসমান কাজীর বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) দিনগত রাতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে যুবক রাসেলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।

রাসেল গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দৌলতদিয়া সৈদাল পাড়ার নজরুল শেখের ছেলে। এ ঘটনায় রাসেলের খালা শুকুরজান বেগম বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে রাসেল উদ্ধারের পর ইউপি সদস্যের লোকজনের হাতে মারপিটের শিকার হয়েছে রাসেলের পরিবাব। সেই ঘটনায়ও পৃথক আরেকটি মামলা হয়।

নির্যাতনের শিকার রাসেল জানান, তিনি ঢাকায় রিকশা চালান। তার বাবা মানসিক রোগী। মা কয়েকদিন আগে জীবিকার তাগিতে সৌদি আরবে গেছেন। সৌদি আরবে যাওয়ার আগে চলতি মাসের প্রথম দিকে তার মায়ের সাথে দেখা করে ঢাকায় ফেরার সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ইউপি সদস্য উসমান কাজীর নের্তৃত্বে কয়েক যুবক তাকে তুলে নিয়ে এসে দৌলতদিয়া কফিলউদ্দিন তেলের পাম্পের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে।

আমাকে বলে, ‘তুই অটোরিকশা চুরি করেছিস।’ এ সময় কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করলে তারা আরো নির্যাতন চালায়। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নৌকায় করে পদ্মা নদীতে নিয়ে যায় এবং বলে যাদের নাম বলতে বলব তাদের নাম না বললে কেটে টুকরো করে নদীতে ফেলে দিব। এক পর্যায়ে সে প্রাণভয়ে তাদের বলে দেয়া নাম বলে এবং তারা সেটি ভিডিও করে রেখে তাকে ছেড়ে দেয়।

এ পরিস্থিতিতে গত ২০ নভেম্বর দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অটোচুরির বিচার বসে। সেখানে হাজির হয় রাসেল। রাসেলের স্বীকারোক্তিমূলক সেই ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে চুরিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয় তার মধ্যে এক ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয় এবং কোনো রায় ছাড়া বিচার শেষ হয়।

এরপর উসমান কাজী রাসেলকে নিয়ে এসে তার বাড়িতে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। আটকে রাখা অবস্থায় তাকে খেতে না দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালান।

মামলার বাদী রাসেলের খালা শুকুরজান বেগম জানান, তার ভাগিনাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের কাছে আসতে চাইলে তাকে এক ব্যক্তি পরামর্শ দেন যে ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে উদ্ধার করবে। সে পরামর্শে তিনি শুক্রবার রাতে ৯৯৯ এ ফোন করে জানান। পরে ওই রাতেই গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ রাসেলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এসময় মকবুল কাজী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য উসমান কাজী বলেন, রাসেল যে অটো চুরি করেছে তার স্বীকারও করেছে। ওই দিন বিচার সভায় উপস্থিত গোয়ালন্দ পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল, দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী মোল্লাসহ সকলেই অভিযুক্ত রাসেলকে তার জিম্মায় দেয়। তিনি তাদের অনুরোধেই রাসেলকে তার বাড়িতে রাখেন।

দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল জানান, পরিষদে বিচারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচার সভার আয়োজন করা হয়েছিল। বিচার সভায় কাউকে আটকে রাখার কথা বলা হয়নি। কী কারণে ইউপি সদস্য উসমান কাজী তাকে আটকে রেখেছিলেন সেটা তার জানা নেই।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাসেলকে উদ্ধার ও একজনকে গ্রেফতার করেন। সে সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া রাসেলের খালা একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে উদ্ধারের পর রাসেলের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় রাসেলের নানি জহুরা খাতুন বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। উভয় মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]