ভোটে হারলেন সেই দুই সতিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সেই দুই সতিন আঙ্গুর বেগম ও জাহানারা বেগম পরাজিত হয়েছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই দুই সতিনের আসনে পদ্মফুল প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুয়ারা বিজয় লাভ করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মমিনুর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই দুই সতিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বুদারবান্নি গ্ৰামের ফজলু মিয়া ওরফে ফজু কসাইয়ের প্রথম স্ত্রী আঙুর বেগম এবং তৃতীয় স্ত্রী জাহানারা বেগম। আঙুর বেগম কলম প্রতীক আর জাহানারা তালগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

দুই স্ত্রীর পরাজয়ের বিষয়টি স্বীকার করলেও বড় স্ত্রী আঙ্গুর বেগমের পরাজয়ের জন্য ছোট স্ত্রী জাহানারা বেগমের নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে দায়ী করেছেন স্বামী ফজলু মিয়া ওরফে ফজু কসাই। দুই স্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্বামী ফজলু মিয়া সমর্থন দিয়েছেন প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগমকে।

ফজলু মিয়া জানান, তার প্রথম স্ত্রী আঙ্গুর বেগম পেয়েছেন ১ হাজার ৭৮০ ভোট। আর তার ছোট স্ত্রী জাহানারা বেগম পেয়েছেন ১ হাজার ৮ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী আঞ্জুয়ারা পদ্মফূল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৫ ভোট।

ফজলু মিয়া বলেন, ‘আমার তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে আমার বনিবনা নাই। তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আমাদের পরিবার এমনকি এলাকাবাসীরও মত ছিল না। কিন্তু সে না দাঁড়ালে আমার বড় স্ত্রী আঙ্গুর বেগম বিজয়ী হতো। কারণ দুই সতিন নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণে মানুষ একটু মন খারাপ করছে। নাহলে কলম মার্কা (প্রথম স্ত্রীর প্রতীক) অনেক ভোট পেয়ে জিয়ী হইতো।’

আগামীতে আবারও প্রথম স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নির্বাচনে অংশ নেওয়াবেন বলেও জানান ফজলু মিয়া।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মমিনুর আলম বলেন, দুই সতিনের কেউই ভোটে জয় লাভ করতে পারেননি। তবে নারীদের অংশগ্রহণকে আমরা স্বাগত জানাই।

মাসুদ রানা/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]