ফরম পূরণের টাকা দিয়েও এইচএসসিতে বসতে পারছেন না ৩৬ শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) পরীক্ষার জন্য ৩৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়েও ফরম পূরণ না করার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ওই শিক্ষার্থীদের।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে প্রবেশপত্র না পাওয়া ৩৬ জনসহ কলেজের ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে রৌমারী উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে মিলিত হন তারা। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দেন।

প্রবেশপত্রবঞ্চিত শিক্ষার্থী রুপসী, সুমাইয়া ও মিলন বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর স্যারের কাছে ফরম পূরণের জন্য তিন হাজার টাকা করে জমা দিয়েছি। পরীক্ষার প্রবেশপত্রের জন্য কলেজে গিয়ে দেখি আমাদের ৩৬ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র নেই। বিষয়টি বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে সবাই অধ্যক্ষের কক্ষে যাই। টের পেয়ে তিনি কলেজ থেকে চলে যান। অধ্যক্ষের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় আমরা বিক্ষোভ মিছিল করে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিই।

প্রবেশপত্রবঞ্চিত হাফিজুর, সেলিম বলেন, এর আগে এইচএসসি প্রথম বর্ষে আমাদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থীকে ফেলের কথা কথা বলে ১ হাজার ২০০ টাকা করে নিয়েছেন অধ্যক্ষ। আমরা পরে জানতে পারি কেউ ফেল করেনি। আমরা ৬০০ শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত উপবৃত্তির টাকা পাইনি। উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে সবার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। আমাদের জীবনের বড় ধরনের ক্ষতি করলেন তিনি। তার গাফিলতির কারণে আমরা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হলাম। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একাধিক প্রভাষক বলেন, অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তি দেওয়ার কথা বলে ১ হাজার করে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম হুমায়ুন কবীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ অনলাইনে করতে হয়। অনলাইনেই তাদের ভুল হয়েছে। পরে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

ku-1.jpg

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড দেখে। আমাদের কিছু করার নেই।

অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বরাবর আমাকে একটি লিখিত স্মারক দিয়েছে রৌমারী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি তদন্তপূবর্ক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও আরও বলেন, আজ ওই কলেজের অধ্যক্ষ এসএম হুমায়ুন কবীর আমাকে মোবাইল ফোনে বলেন শিক্ষার্থীরা কলেজে ভাঙচুর চালাচ্ছে। তখন আমি ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে তিনি ফরম পূরণ না করার বিষয়টি আমাকে বলেন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আবদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ফরম পূরণের সুযোগ ছিল। এখন আমাদের করার কিছুই নেই। কলেজের অধ্যক্ষ টাকা নিয়ে কেন ফরম পূরণ করেননি, তা আমার বোধগম্য নয়। শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পেলে পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই।

মো. মাসুদ রানা/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]