টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:৪৪ এএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মাঘের তীব্র শীতে কাঁপছে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের মানুষ। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শুক্র থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা তিনদিন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পর তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে আজ মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারী) কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার রিপোর্টে কুড়িগ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজারহাট আবহাওয়া অফিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

jagonews24

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, টানা তিনদিন মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের পর মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। যা আগামী ৩-৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি পরবর্তী পুনরায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

কনকনে ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া, দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষজন। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই।

শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছেন জেলার সাড়ে চার শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের মানুষসহ ছিন্নমূল মানুষ। একই পরিস্থিতি নদ-নদী সংলগ্ন বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষজনেরও। শীতে গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শীত উপেক্ষা করেই জীবন জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলছেন শ্রমজীবী মানুষজন।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঘোড়ার গাড়িচালক মজিদ মোল্লা জানান, ঠান্ডায় ঘোড়ার গাড়িতে খুবই কষ্টে। কনকনে ঠান্ডায় ঘোড়া দৌড়াতে চায় না। কিন্তু ঘোড়াকে খাওয়াতে তার প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা লাগে। আয় না করলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানান তিনি।

জেলা সদরের পাটেশ্বরী এলাকার রিকশাচালক আয়নাল হক জানান, ঠান্ডায় কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দিতে ভোগায় রিকশা নিয়ে বের হতে পারেননি তিনি। ঋণের টাকায় রিকশা কিনেছেন। কিস্তি পরিশোধ ও পরিবারের খাবারের যোগান দিতে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

jagonews24

ভিতরবন্দের ভ্যানচালক আনোয়ার মিয়া বলেন, কয়েকদিন থেকে খুবই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। ঠান্ডার কারণে ভাড়া মেলে না। ভোরে বের হলেও দু’ঘণ্টা ধরে একটিও ভাড়া পাইনি। গরম কাপড়ের অভাবে ঠান্ডায় ভ্যানে উঠে কাঁপছি। আমাদের দেখার কেউ নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার বলেন, জেলার নয়টি উপজেলার শীতার্তদের জন্য এক কোটি আট লাখ টাকার কম্বল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা ৩৫ হাজার ৭০০ কম্বল পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ছয় হাজার সোয়েটার ও পাঁচ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

মাসুদ রানা/এফএ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।