জামা তৈরিতে ত্রুটি, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে যুবক নিহত
জামা তৈরিতে ত্রুটি হওয়াকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মিলন মিয়া (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত মিলন উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ইটালুকান্দা গ্রামের আজিজল হকের ছেলে।
সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এরা হলেন- ইটালুকান্দা গ্রামের মৃত রহিজ উদ্দিনের ছেলে আজিজল হক (৬২), একই গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে রিপন মিয়া (২৮) ও মোহাম্মদ আলীর ছেলে রুবেল মিয়া (১৫)। অপর পক্ষের একই ইউনিয়নের গাছবাড়ি গ্রামের জেলাল উদ্দিনের ছেলে রঞ্জন আলী (২৮) ও রঞ্জন আলীর স্ত্রী মোছা. সোমা খাতুন (১৯)। এদের মধ্যে আজিজল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইটালুকান্দা গ্রামের শালু মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৬) গাছবাড়ি বাজারের মাইদুল ইসলাম দর্জির কাছে জামা তৈরি করতে দেন। সঠিক মাপে জামা তৈরি না করায় দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু উভয়ের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বিরাজ করলে সালিশ পণ্ড হয়ে যায়।
এরই জেরে শনিবার বিকেলে গাছবাড়ি বাজারে গেলে ইটালুকান্দা গ্রামের মৃত হানিফ উদ্দিনের ছেলে আইনুল হককে গাছবাড়ি গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে শুভ মিয়া (১৬) মারধর করে। এতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। রোববার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিলন মিয়া মারা যান।
এ বিষয়ে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক অলক কুমার জাগো নিউজকে বলেন, শনিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অবস্থায় ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোরে তাদের মধ্যে মিলন মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আজিজল হক নামের আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহ সোমবার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
মাসুদ রানা/এসজে/জিকেএস