স্বামী-সন্তান হারিয়ে একাই বেঁচে থাকার সংগ্রামে রামগতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:০৪ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২২
জুতা মেরামতের কাজ করেই একার সংসার চালান রামগতি

কিশোরী বয়সে স্বামী কমল রবিদাসের হাত ধরে বাবার সংসার ছেড়েছিলেন রামগতি রবিদাস। বর্তমান বয়স তার ৫০। স্বামীর সংসারে একে একে সাতটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই জীবিত নেই। প্রত্যেকেই জন্ম হওয়ার মাস দুয়েকের মধ্যেই মারা যায়। ১০ বছর আগে হারিয়েছেন স্বামীকেও।

বর্তমানে একাই স্বামীর নিবাস নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার রবিদাস পাড়ায় বসবাস করে আসছেন রামগতি। সবাইকে হারিয়ে স্বামীর ছোট কুটিরই তার আপন ঠিকানা। স্বামীর রেখে যাওয়া স্মৃতি ছোট দোকানে বসেই মুচির কাজ করেন। সেই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। কারও কাছে তিনি হাত পাতেন না।

রামগতি রবিদাস বলেন, যখন আমার বয়স ১০ কি ১১ হবে তখনই বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেন। গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জে বউ হয়ে আসি। তখন তেমন একটা বুঝতাম না। স্বামী যেভাবে বলতেন সেভাবেই চলতাম। স্বামীর সংসারে আমার কোনো দুঃখ ছিল না। শুধু মনে একটাই কষ্ট ছিল আমরা সন্তান নেই। পেটে একে একে সাত পুত্রসন্তান ধারণ করলাম। কিন্তু কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না। সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। সবশেষ আমার মানুষটিও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি এখন একা।

তিনি আরও বলেন, এখন আমার কেউ নেই। সবাই আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। জুতো সেলাই করে যা পাই তা দিয়েই কোনোরকম সংসার চলে যায়। কারও কাছে সাহায্য চাই না।

স্বামী-সন্তান হারিয়ে একাই বেঁচে থাকার সংগ্রামে রামগতি

পাশের রেস্তোরাঁ মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই (রামগতি রবিদাস) নারী তেমন কথা বলে না। একা একাই নীরবে কাজ করে যান। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলেও তিনি নেন না। তবে আমি মনে করি তিনি আমাদের সমাজের অসহায় নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। তার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত কীভাবে সংগ্রাম করে বাঁচতে হয়।

রামগতি রবিদাসের দেবর নারায়ণগঞ্জ রবিদাস জাগো নিউজকে বলেন, তিনি একা একাই চলেন। কারও কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না। ভাই দোকান রেখে গিয়েছিলেন সেটা দিয়েই তার চলে যায়। সাত ছেলের জন্ম হয়েছিল কিন্তু কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না।

বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর জাহান বেগম জাগো নিউজকে বলেন, রামগতি রবিদাসের মতো নারীরা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। শত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও কীভাবে নিজেকে শক্ত রেখে জীবন জীবীকার তাগিদে সংগ্রাম করে যেতে হয় তিনিই তার প্রমাণ। বর্তমান সময়ে সামান্য কিছুতেই নারীরা হতাশ হয়ে যান। কিন্তু রামগতি রবিদাস পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে একা একাই জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। তিনি কারও কোনো সহযোগিতা চান না। নিজে কাজ করে খান।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ওই নারীকে খুঁজে বের করে তার জন্য বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়া তার প্রতি আমাদের নজর রয়েছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।