দৌলতদিয়া সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন, দুর্ভোগে চালকরা
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন নদী পারাপার হয়। তবে বর্তমানে নাব্য সংকটের কারণে দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের। এই মহাসড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কে শত শত পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৬ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া প্রান্তের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফিডমিল পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ও গোয়ালন্দ মোড়ের রাজবাড়ী জুট মিল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের লাইন দেখা যায়। এসময় সড়কের খোলা আকাশের নিচে তীব্র গরমে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চালক ও সহকারীরা। এছাড়া সময় মতো মালামাল পরিবহন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। তবে দৌলতদিয়ায় সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ঘাট আগেই বন্ধ ছিল। নতুন করে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে ৬ নম্বর ঘাটটিও বন্ধ। বর্তমানে ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যে আবার দু-একটি ঘাট বিভিন্ন কারণে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বর্তমানে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ফেরিঘাটের পকেট পথগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন লোড-আনলোডে সময় বেশি লাগছে।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা বাসের সুপারভাইজার রোকন মিয়া বলেন, দুপুর ১২টায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় সিরিয়ালে এসে আটকা পড়েছেন। ফেরি পেতে কমপক্ষে দু-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এসময় প্রচণ্ড গরমে বাসের যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ট্রাকচালক আশিকুল ইসলাম, কুদরত, আমজাদ গাজীসহ কয়েকজন জানান, দুদিন আগে এসে তারা গোয়ালন্দ মোড়ে সিরিয়ালে আটকে আছেন। তীব্র গরমে খোলা আকাশের নিচে থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এখানে খাবার, গোসল ও টয়লেটের কোনো সুব্যবস্থা নেই।

তারা বলেন, এখান থেকে ঘাট এখনো প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। কবে, কখন ফেরি পাবেন তা বলতে পারছেন না। এভাবে প্রায় সারা বছরই তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, এ নৌরুটে পর্যাপ্ত ফেরি চলাচল করছে। তবে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় ফেরিতে লোড-আনলোডে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাস ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।
রুবেলুর রহমান/এমআরআর/জিকেএস