ঈদযাত্রায় রাজবাড়ী মহাসড়কে অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে বাড়ি ফিরছে হাজারো মানুষ। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ছে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে। এ সুযোগটা লুফে নিচ্ছেন অবৈধ যানবাহনের চালকরা। রাজবাড়ীর মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে আসা ঘরমুখো প্রায় অর্ধেক মানুষকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এসব যানে চেপেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কসহ আঞ্চলিক সড়কে থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা), নসিমন, ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।

রোববার (১ মে) সকালে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালসহ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘরমুখো যাত্রীরা ঘাটে নেমে টার্মিনাল এলাকায় আসছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবৈধ যান মাহিন্দ্রা, নসিমন ও ইজিবাইকের চালকরা বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের ডাকছেন। তবে প্রতিটি যানেই স্বাভাবিক সময়ের ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুন বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এসব যানবাহনগুলো রাজবাড়ী, পাংশা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। তবে টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে মাইকে প্রচারণা চালাতেও দেখা গেছে।

ফরিদপুর যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ফরহাদ ও আলিমউদ্দিন। তারা ঢাকা থেকে ভেঙে ভেঙে এসেছেন। তারা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদে বাড়ি যাচ্ছি। এজন্য খুব ভালো লাগছে। তবে প্রতিটি জায়গায় ভাড়া বেশি। দৌলতদিয়ায় ভাড়া আরও বেশি। ৫০ টাকার ভাড়া চাইছে দেড় থেকে দুইশ টাকা। যেহেতু ঈদ, তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।’

মাহিন্দ্রায় করে মাগুরা যাচ্ছিলেন রবিউল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাসে ভাড়া বেশি চাচ্ছে, সিটও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মাহিন্দ্রায় উঠেছি।’
কয়েকজন মাহিন্দ্রা চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কে মাহিন্দ্রা চলাচলে হাইওয়ে পুলিশ অনেক সমস্যা করে। তবে যারা পুলিশকে টাকা দেয়, তাদের কোনো সমস্যা হয় না। ঈদের বাজার তাই ঝুঁকি নিয়েই তারা যাত্রী আনা-নেওয়া করছেন।

আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন। গত এক মাসে ৩৮২টি মামলা দিয়েছেন। অভিযান চলবে।
রুবেলুর রহমান/এসআর/জেআইএম