ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিও ভাইরাল, তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ০৬ জুন ২০২২
ফাইল ছবি

মামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণী।

সোমবার (৬ জুন) দুপুরে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বন্দর থানায় তরুণীর মা বাদী আরও একটি মামলা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুই বছর ধরে বন্দর উপজেলার বালিয়াগাঁও এলাকার মৃত জামির খানের ছেলে নুরুল আমিন ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন নুরুল।

২২ মে ফের ধর্ষণের পর তরুণী নুরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিয়ের এড়িয়ে গেলে তরুণীর মা বাদী হয়ে ২ জুন নুরুল আমিনকে আসামি করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছিলেন।

মেয়েটির মা বলেন, ‘থানায় মামলা করায় ধর্ষক নুরুল আমিনের স্ত্রী শ্যামলী বেগম ও একই এলাকার তাওলাদ হোসেনের ছেলে ধর্ষকের ভাগনে ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম রোববার মেয়ের ভিডিও ভাইরাল করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়ে সকালে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’

বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় আরও একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ধর্ষক নুরুল আমিন ও অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ধর্ষকের স্ত্রী শ্যামলী ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় বিচার সালিশি ও ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় আত্মহত্যার একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা অভিযোগ মামলা আকারে নিয়ে স্থানীয় মেম্বার আব্দুল মমিন ওরফে কচিকে গ্রেফতার করেছি।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।