বাবা-ভাইয়ের পর পরপারে পাড়ি জমালেন সামিরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২২

সিলেটের ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী পরিবারের ৫ সদস্য অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পরপরই মারা যান বাবা-ছেলে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন নিহত প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। এরমধ্যে মা-ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ১১ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন মেয়ে সামিরা ইসলাম।

এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টায় মারা যান সামিরা। এনিয়ে একই পরিবারের তিনজন মারা গেলেন। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানও নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সামিরার মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই সামিরার বাবা ওসমানীনগর উপজেলার বড়দিরারাই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন- রফিকুলের স্ত্রী হোসনে আরা ইসলাম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৪) ও মেয়ে সামিরা ইসলাম (১৯)। এরা সবাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। সামিরাও আজ মধ্যরাতে মারা গেছেন।

এছাড়া বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ওসমানীনগরের তাজপুরস্থ মঙ্গলচন্ডি স্কুল রোডের ভাড়া বাসায় ফিরে যান সামিরার মা হোসনে আরা বেগম ও ভাই সাদিকুল ইসলাম। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল গাফ্ফার জানান, সামিরার কিডনি ও লিভারসহ কয়েকটি অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আর এ কারণে তিনি শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টায় মারা গেছেন।

তিনি বলেন, গত ২৬ জুলাই অচেতন অবস্থায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম, ছেলে সাদিকুল ইসলাম ও মেয়ে সামিরা ইসলামকে ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার মা ও ছেলেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু সামিরার জ্ঞান ফেরেনি।

এদিকে গত বুধবার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর আবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তিনি হাসপাতাল ফেরত হোসনে আরা বেগম ও সাদিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ সময় হোসনে আরা পুলিশ সুপারকে জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে বাসার ভেতর জেনারেটর চলতো। জেনারেটর চালুর পর তার ছেলে মাইকুল ইসলামের শ্বাসকষ্ট হতো। বাসায় জেনারেটর চালু করে পুলিশও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। জেনারেটর চালুর পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা অস্বস্তি বোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

বাবা-ভাইয়ের পর পরপারে পাড়ি জমালেন সামিরাও

পুলিশের ধারণা, ঘটনার রাতে দীর্ঘসময় জেনারেটর চালু থাকায় শ্বাস প্রশ্বাস নিতে না পেরে দম বন্ধ হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম ও তার ছেলে মাইকুল ইসলাম মারা যান। অচেতন হয়ে পড়েন স্ত্রী ও অপর দুই ছেলে-মেয়ে।

জেনারেটরের ধোঁয়ায় কী ধরণের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আলামত পাঠানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে পুলিশ মারা যাওয়া বাবা-ছেলের ময়নাতদন্ত ও ওই রাতে গ্রহণ করা খাবারের রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, সাধারণত বাসা-বাড়িতে জেনারেটর বাইরে থাকে। কিন্তু ওই বাসার ভেতরে জেনারেটর ছিল। পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য বাসার জেনারেটর চালু করা হলে কিছুক্ষণ পর উপস্থিত পুলিশ সদস্যদেরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার রাতে দীর্ঘক্ষণ জেনারেটর চালু থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে এই ট্র্যাজেডি ঘটতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। জেনারেটরের ধোঁয়া সংগ্রহ করে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পাঠানো হয়েছে।

২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টায় ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলচন্ডি রোডের চারতলা বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে একই পরিবারের পাঁচ প্রবাসীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এরমধ্যে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছেলে মাইকুল ইসলামকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ছামির মাহমুদ/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]