সভাপতির পেটে মাদরাসার ঘর, জলাশয় লিজ দিয়ে মাছচাষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৫:১৯ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একটি মাদরাসার সভাপতির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বকুল মিয়া। তিনি উপজেলার হরিপুর সুন্নিয়া মাদরাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

বকুল মিয়া ও অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমানের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করেন মমতাজ মিয়া নামের মাদরাসার এক অভিভাবক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন ইউএনও।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বকুল মিয়া যিনি ম্যানেজিং কমিটি-২০০৯ প্রবিধানমালা অনুযায়ী কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, সেখানে তিনি মাদরাসার নামে থাকা চান্দিবাড়ি জলাশয় নিজের নামে লিজ করিয়ে নিয়ে মাছচাষ করে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাদরাসা।

jagonews24

‘মাদরাসার পূর্ব ভিটে থাকা পুরাতন ঘর কোনো প্রকার রেজ্যুলেশন ছাড়া বিক্রি করে দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন সভাপতি বকুল। বিষয়টি মাদরাসার সুপার, সহকারী শিক্ষক, দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান। ২০২২ সালে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের ৩১ হাজার ৮০০ টাকা ভারপ্রাপ্ত মাদরাসা সুপার ও অফিস সহকারীর কাছ থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যান সভাপতি বকুল মিয়া। পরে ২১ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।’

২০২০ সালে ভোটার তালিকা নিয়ে সমস্যা থাকায় প্রশাসন মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করে। এরআগে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী আটজন প্রার্থীর জামানতের আট হাজার টাকা অফিস সহকারী ও মাদরাসা সুপারের কাজে রক্ষিত ছিল। সেই টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান মাদরাসার সভাপতি। এছাড়া আরও নানান অভিযোগের সত্যতা পায় তদন্ত কর্মকর্তা।

তার এসব অনিয়মের সহযোগী ছিলেন অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

jagonews24

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুর ইসলাম ভূইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘হরিপুর মাদরাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তদন্ত কমিটির সামনে তিনি হাজির হননি। তদন্তে আমরা এর (অভিযোগ) সত্যতা পেয়েছি। গত ৩ আগস্ট বিস্তারিত উল্লেখ করে ইউএনও বরাবর প্রতিবেদন ও সুপারিশ দাখিল করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কমিটির সভাপতি বকুল মিয়া বলেন, ‘অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তদন্ত কমিটি আসার আগের রাতে আমাকে জানানো হয়। সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু দেওয়া হয়নি। এরআগে কমিটি অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছি।’

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোনাব্বর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানতে পারেছি। তবে আমার টেবিলে এখনো আসেনি। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।