দাম বাড়ছে স্টেশনারি পণ্যের, খুচরা ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

মোবাশ্বির শ্রাবণ মোবাশ্বির শ্রাবণ , জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ১১ আগস্ট ২০২২

নারায়ণগঞ্জে স্টেশনারি পণ্যের দামেও যেন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। স্টেশনারির এমন কোনো পণ্য নেই যেটির দাম বাড়েনি। প্রত্যেক পণ্যের পাইকারি দাম বাড়ায় খুচরা বিক্রেতাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে খুচরা বিক্রেতাদের।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এখানে লাভবান হয়ে থাকলে বড় বড় কোম্পানি লাভবান হচ্ছে। তাদের লাভ আগের চেয়ে আরও কমেছে। দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের পণ্যের সংখ্যাও কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকার স্টেশনারি বাজার ও দোকান ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

স্টেশনারি ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রির দোকানগুলোতে ৫০ টাকার ব্যবহারিক খাতা এখন ৬০ টাকা, ৭০ টাকার খাতা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা, ১২০ পৃষ্ঠার খাতা ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, কালার পেপার রিম ৩৪০ থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রেজিস্টার খাতা ৩০০ পৃষ্ঠা ১৩০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা, ৫০০ পৃষ্ঠা ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

মিনি ফাইল প্রতিটি ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা। জিপার ফাইল ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা। কলমের দাম ডজন প্রতি বেড়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। মার্কার পেন প্রতি পিস ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা হয়েছে। সাধারণ ক্যালকুলেটর ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা, জ্যামিতি বক্স ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্লাস্টিক ও স্টিলের স্কেল ডজনপ্রতি ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। রাবার ডজনপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে।

jagonews24

শহরের চাষাঢ়া এলাকার মমতা বুক অ্যান্ড জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর বলেন, কাগজের দাম অনেক আগে থেকেই বেড়ে আসছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর হঠাৎ করেই কাগজের দাম আগের থেকে আরও বেশি বেড়ে গেছে। আগে অফসেট কাগজ রিম প্রতি কেনা হতো ২৩০ টাকা। এখন সেটা ৩৭০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কাগজের দাম বেড়ে গেলে বইয়ের দাম এমনিতেই বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আগে যে বই ৪৮০ টাকায় বিক্রি করতাম এখন সেটা ৫৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এমনিভাবে কলমের দামও ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকায় ডজনপ্রতি বেড়ে গেছে। ফাইল প্রতি ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্যামিতি বক্সের দামও ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়েছে। এমনিভাবে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে।

মক্কা-মদিনা লাইব্রেরি অ্যান্ড স্টেশনারির মালিক আতিকুর রহমান বলেন, সব পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রত্যেক পণ্য প্রতি ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কালারিং কাগজের প্যাকেট প্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে দাম বেড়েছে। আর এখানে লাভবান হচ্ছে ডিলাররা। কিন্তু আমাদের পণ্যের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আর পণ্যের সংখ্যা ধরে রাখতে হলে আমাদের পুঁজির পরিমাণ বাড়াতে হচ্ছে।

মামুনাবাদ বুক অ্যান্ড জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. রাজু বলেন, আগে কালার কাগজ রিমপ্রতি ৩৪০ টাকা কেনা হতো। এখন সেটা ৪৬০ টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়। ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা হয়েছে। বই প্রতি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে আমাদেরই কিনতে হচ্ছে। এখানে বড় বড় কোম্পানিগুলো লাভবান। বরাবরই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকি।

শুভেচ্ছা বুক অ্যান্ড জেনারেল স্টোরের মালিক মো. আল আমিন বলেন, দিস্তা কাগজ যেটা ৩৫০ টাকা কিনে আনতাম সেটা এখন ৪৪৫ টাকায় কিনে আনতে হয়। এমন কোনো পণ্য নেই যেটার দাম বাড়েনি। আর এই দাম বাড়ার কারণে প্রতিনিয়ত ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। সাধারণ ক্রেতারা এসে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা যেখান থেকে এসব পণ্য কিনি তাদের কিছু বলতে পারি না। কোম্পানিগুলো লাভবান হয়ে যাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুস্তক প্রকাশ ও বিক্রেতা সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও দিগন্ত লাইব্রেরির মালিক মো. আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষা উপকরণের সমস্ত জিনিস যেমন পিন থেকে শুরু করে খাম ও আঠার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে কাগজটা ২০ টাকা দিস্তা বিক্রি করতাম সেটা এখন ৩০ টাকা দিস্তা বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে যে রিমটা ২৪০ টাকায় কিনতাম সেটা এখন ৪৩০ টাকা কিনতে হচ্ছে। আগে যে খাতা ৬০ টাকায় বিক্রি করতাম সেটা এখন ৯০ টাকা কিনতে হচ্ছে। এভাবে প্রত্যেকটি জিনিসের মূল্য পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, সাইনপেন ৪২০ টাকা ডজন কিনতাম আজকে সেটা ৭২০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এখন যে বইগুলো ১৩০ টাকায় কিনতে পারতাম সেটা আগামী জানুয়ারিতে কত টাকায় কিনতে হয় জানি না। পাঁচ টাকার খামগুলো মনে হয় কিছুদিন পর ১০ টাকা করে বিক্রি করতে হবে। শিক্ষা সামগ্রীর দামে এই আগুন কবে নিভবে আমরা জানি না। আমাদের দাবি, অন্তত শিক্ষা সামগ্রীর মূল্য যেন সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে থাকে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতির এস এম পিন্টু জাগো নিউজকে বলেন, স্টেশনারি পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও কাগজের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কাগজের দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। প্রথমে ৮০ হাজার টাকা টন, ৮৫ হাজার, ৯২ হাজার, ১ লাখ ২৫ হাজার এখন ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা টনে পৌঁছেছে। কাগজের দাম একেবারে আকাশচুম্বী।

তিনি আরও বলেন, ডলারের দামে অস্থিরতার কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। আমাদের ব্যবসার খুব খারাপ অবস্থা চলছে। আগে ৯০ টাকার জিনিস ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন ১০৫ টাকার জিনিস ১১০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়লে ব্যবসার ক্ষতি। একটা কলম সাড়ে তিন টাকায় কিনে পাঁচ টাকা বিক্রি করতাম এখন ৪ টাকা ৮০ পয়সায় কিনে পাঁচ টাকায় বিক্রি করতে হয়।

এমআরআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।