‘বালিশ চাপায় হত্যার পর অদিতার গলা কাটে রনি’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

পরে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে অদিতার বাসায় যান রনি। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাকে ঘরে বসতে দেন অদিতা। এসময় রনি অদিতাকে আলিঙ্গন করতে চান। অদিতা বাধা দিলে তাকে জোরপূর্বক ভেতরের কক্ষে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণচেষ্টা চালান। এসময় ধস্তাধস্তিতে অদিতার নখের আঁচড়ে রনির মুখে-ঘাড়ে দাগ পড়ে।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি মায়ের কাছে বলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তাৎক্ষণিক বালিশ চাপা দিয়ে আদিতাকে হত্যা করেন রনি। পরে ছুরি দিয়ে হাতের রগ ও গলা কেটে দেন। এসময় ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে দুপুর ২টার দিকে বের হয়ে যান।

মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আসামি রনি পুলিশকে জানিয়েছে সে ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখেই খুন করার পরিকল্পনা মাথায় আসে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

jagonews24

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতী খীসা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোর্তাহীন বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) নাজমুল হাসান রাজিব, ডিআইও -১ মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার সাবেক প্রাইভেট শিক্ষক আবদুর রহিম রনি (২০), প্রতিবেশী ইসরাফিল (১৪), তার ভাই সাঈদকে (২০) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রনি আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।